শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩

গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখলসহ অনেক অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি

[print_bangla]

 

​​[​গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি | মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল]

সরকারি চাকরি যেন রূপকথার আলাদিনের চেরাগ যা ঘষলেই রাতারাতি সব অবৈধ সম্পত্তি বৈধ হয়ে যায়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় এমনই এক অলৌকিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার সার্ভেয়ার (আমিন) কবিরের বিরুদ্ধে। খাস জমি মাপে কারচুপি, ফাইল গায়েব, সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং সুদের কারবারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পৌর এলাকার অভিজাত ও ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি মোড়ে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন কবির। বাইরে শান্ত ও আমায়িক স্বভাবের হলেও ভেতরে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট।


অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দিষ্ট ফি থাকলেও জমি মাপা ও সিরিয়াল পাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা হাঁকান আমিন কবির। এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, একই জমি চার বছরে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত মাপা হয়েছে এবং প্রতিবারই কবিরের ফিতে ভিন্ন ফল দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় যে পক্ষের টাকার পাল্লা ভারী হয়েছে, অদৃশ্য শক্তিতে তাদের জমির পরিমাণ বেড়ে গেছে। আর টাকা দিতে না পারা পক্ষ নিজের জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

​খাস জমি দখল ও নিজস্ব মার্কেট নির্মাণ
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে তার নিজস্ব বাড়ির সামনের । ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাস্তার পাশের সরকারি খাস জমি দখল করে নিজ বাড়ির সামনেই তিনি একটি মার্কেট গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের দাবি, আমিন কবিরের দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজতে বড় তদন্তের প্রয়োজন নেই, তার বাড়ির সামনের অবৈধ মার্কেটটিই সবচেয়ে বড় চাক্ষুষ প্রমাণ।
​ফাইল গায়েব ও নামজারি ব্ল্যাকমেইলিং
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নকশা অনুমোদন বা নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে খুঁত ধরে সাধারণ নাগরিকদের ব্ল্যাকমেইল করেন কবির। চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কাজের ফাইল আটকে রাখা বা মূল রেকর্ডপত্র গায়েব করে দেওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করেন। এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মূল মালিককে ডিঙিয়ে তৃতীয় পক্ষকে নামজারিতে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​জনমনে আতঙ্ক ও নীরবতায়
গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয়রা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেন। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারে নিজ কাগজপত্রের ক্ষতি হতে পারে এমন ভয়ে অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। অসহায় দরিদ্র মানুষের ভিটেমাটি কেটে ছোট করে দেওয়ার পরেও কবিরের অদৃশ্য দাপটে নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

​অভিযুক্ত আমিন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি
সব অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবির বলেন, আমরা সরকারি সার্ভেয়ার, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের জায়গায় মার্কেট করার কথা ভুল। আমরা সরকারি জায়গা রক্ষা করি। যারা অভিযোগ করছে তারা কাগজপত্র বোঝে না। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কিছু দুর্বল পয়েন্ট আছে, তারা সঠিকভাবে একুইজিশন করতে পারেনি।
​তিনি আরও যোগ করেন, কারো কোনো অভিযোগ থাকলে পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিন। আমারও অজান্তে কোনো অন্যায় থাকলে শাস্তি হোক। কাজের মধ্যে ভুলত্রুটি দেখলে জানালে সংশোধন করে নেব।

​আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ উপার্জনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন এলাকাাসী।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখলসহ অনেক অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top