
মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
আজ শিক্ষক দিবস। জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের এই বিশেষ দিনে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক প্রথিতযশা ও কীর্তিমান শিক্ষক—প্রয়াত আব্দুল মজিদ স্যারকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে। যে মানুষটি নিজের পুরো জীবন শিক্ষাদানের পবিত্র ব্রতে উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব আজও এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছে।
প্রয়াত আব্দুল মজিদ স্যার ছিলেন একাধারে সুশিক্ষিত, এবং একটি সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং তাঁর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব ও সুমহান আচরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে নৈতিকতার বীজ বপন করেছিলেন। সমাজে এমন গুণী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো এবং শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, তাঁর মতো মানুষেরা তাদের কর্মের মধ্য দিয়ে সমাজের আলোকবর্তিকা হয়ে বেঁচে থাকেন।
স্যারের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সোনালী স্মৃতিচারণ করে তাঁর এক কৃতজ্ঞ শিক্ষার্থী জানান, “১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল—এই দীর্ঘ সময়ে স্যারের সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষালাভ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সেই দিনগুলোতে স্যারের কঠোর শাসন, অকৃত্রিম স্নেহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা আজকের সফল মানুষগুলোর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। তিনি আমাদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই দেননি, শিখিয়েছিলেন মানুষের মতো মানুষ হওয়ার আসল পথ।”
”শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি জীবন গড়েন। আব্দুল মজিদ স্যারের মতো আদর্শ শিক্ষকের প্রতি আমাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নয়, বরং ভালো মানুষ হওয়ার এক চিরন্তন তাগিদ।”
শিক্ষক দিবসের এই পবিত্র লগ্নে প্রয়াত আব্দুল মজিদ স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। সমাজে তাঁর মতো আলোকিত শিক্ষকদের আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকুক এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিটি শিক্ষার্থীর চলার পথের পাথেয় হোক—এটাই আজকের দিনের প্রত্যাশা।