
মো. রাসেল সরকার, গজারিয়া প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের চরচাষী এলাকায় জনবসতি ও শিল্পকারখানার আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কয়লার গদি। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই ব্যবসা পরিচালনায় মানা হচ্ছে না যথাযথ বিধি বিধান। কয়লা পরিবহন ও মজুতের সময় ছড়িয়ে পড়া ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্যের মান, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অন্য দিকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরচাষী কাজী ফ্রাম শিল্পকারখানা-সংলগ্ন এলাকায় আনন্দ ট্রেডার্স, সোনিয়া ট্রেডার্স, সরকার ট্রেডার্স, মেসার্স মোশাররফ হোসেন কোঃ সহ একাধিক কয়লা আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গদি গড়ে উঠেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা, বসতবাড়ি ও উৎপাদনশীল শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশেই চলছে কয়লার মজুত ও বেচাকেনার কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়লা পরিবহনের সময় অধিকাংশ গাড়িতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিদিন শত শত যানবাহন কয়লা নিয়ে যাতায়াত করায় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে কয়লার ধুলা। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্য ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে খাবারের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। পণ্যের মান ও বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেকের ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
মোঃ রবিউল ও দেলোয়ার মাষ্টারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, কয়লার ধুলায় তাদের ব্যবসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলে কিংবা ক্যামেরার সামনে কথা বললে প্রভাবশালী মহলের হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবসা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয় না বলেও অভিযোগ তাদের। এদিকে একাধিক কয়লার গদি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মোল্লা ট্রেডার্স ও আনন্দ ট্রেডার্সের মালিকেরা অকপটে স্বীকার করেন, শতভাগ আইন মেনে এ ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিবেশের ক্ষতি কমাতে দিনে একাধিকবার পানি ছিটানো হয় বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, গজারিয়া একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে। তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়। কয়লার বিষয়টি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জনবসতি থেকে দূরে কয়লার গদি স্থাপনের বিধান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এসব বিধিবিধান মানছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাসংক্রান্ত সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জে/এ
