
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টর-
পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার ঘটনার ৬৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন। জানা গেছে, শুক্রবার (৬ জুন) ভোর ৫টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার থেকে কয়েক দফায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায় থেকে শুরু করে বিজিবি ও বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিএসএফ এখন পর্যন্ত ওই ১০ জনকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে জিরো লাইনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সীমান্ত এলাকার চারপাশে পানি ও ফসলি জমির আইলে অবস্থান করছেন তারা। নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঘিরে আশ্রয় তৈরি করেছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।
এদিকে জিরো লাইনে আটকে থাকা এসব নারী, পুরুষ ও শিশুকে এক নজর দেখতে সীমান্ত এলাকায় ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৌতূহলী মানুষ বড়বাড়ি সীমান্তে ছুটে আসছেন। অনেকেই তাদের দুর্দশা দেখে সহানুভূতি প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত মানবিক সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। বিএসএফের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই এসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তারা ভারতের না বাংলাদেশের নাগরিক, সেটিও স্পষ্ট নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিএসএফের উচিত তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং পরিচয় নিশ্চিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্থানীয়দের মতে, যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। আর যদি তারা ভারতের নাগরিক হন, তাহলে বিএসএফের উচিত তাদের ফিরিয়ে নেওয়া। দীর্ঘ ৬৫ ঘণ্টা সীমান্তে আটকে থাকায় তাদের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কোনো দেশের নাগরিককে অবৈধভাবে পুশইন করা যাবে না। এ বিষয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।” প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত ১০ জনের ভাগ্য অনিশ্চিত রয়ে গেছে। জে/এ
