
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ও কূর্শা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দুইটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জনগণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। বিষয় টি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটি অবশেষে চালু করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটি জনবল সংকটের কারণে বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর জেলা শহরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ অবস্থার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে গত সোমবার কেন্দ্র দুটিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্র দুটিতে নানা রোগের চিকিৎসা, মাতৃসেবা, শিশু স্বাস্থ্য সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে এলাকার মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা নিতে পাচ্ছেন। টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আছমা বেওয়া বলেন, আগে সামান্য চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো। এখন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হচ্ছে। কূর্শা ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। নিয়মিত চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে সেবার মান আরও বাড়বে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আহসান হাবিব বলেন, সম্প্রতি আমি এখানে যোগদান করেছি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কেন্দ্র দুটি চালু করেছি।
টেপামধুপুর ও কুর্শা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন ডাক্তার, ১ জন মিড ওয়াইফ, ১ জন মেডিকেল অফিসার ও ১ জন এম এল এস কে প্রেরণ করা হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র দুটির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
দুই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ সরবরাহ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। জে/এ
