
আকবর হায়দার কিরন-
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় ছিল একটি নাম-স্পেন। অনেকেই মনে করে ছিলেন, ইউরোপীয় ফুটবলের আধুনিক ধারার অন্যতম সফল দলটি এবার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। তাদের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড, দুর্দান্ত পাসিং ফুটবল এবং সাম্প্রতিক সাফল্য সেই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো-এখানে ভবিষ্যদ্বাণী সব সময় সত্যি হয় না।
আজ কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে স্পেনের ম্যাচটি দেখার পর মনে হলো, বিশ্বকাপ আবারও প্রমাণ করলো যে ফুটবল শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের খেলা নয়; এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নেরও খেলা। মাঠে নামার আগে স্পেন ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। অনেকেই ধরে নিয়ে ছিলেন তারা সহজেই জয় তুলে নেবে। কিন্তু আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কাবো ভার্দে অন্য গল্প লিখতে মাঠে নেমে ছিল। তারা স্পেনকে কোনো সম্মান সূচক ছাড় দেয়নি। বরং শুরু থেকেই সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অসাধারণ দলগত নৈপুণ্যে স্পেনকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ম্যাচের দীর্ঘ সময় জুড়ে স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের সামনে ছিল অস্বাভাবিক অকার্যকর। অন্য দিকে কাবো ভার্দের খেলোয়াড়রা দেখিয়েছেন অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস। তাদের প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স এবং প্রতিটি আক্রমণে ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা-আমরা এখানে শুধুমাত্র অংশ নিতে আসিনি, লড়াই করতেও এসেছি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত আছে, যখন ছোট দলগুলো বড় শক্তিকে চমকে দিয়েছে। আজকের ম্যাচটি সেই তালিকায় নতুন একটি অধ্যায় যোগ করলো। হয়তো কাবো ভার্দে এখনও বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার নয়, কিন্তু তারা আজ বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছে। অন্য দিকে স্পেনের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপের পথ দীর্ঘ এবং কঠিন। শুধু তারকা খেলোয়াড় কিংবা পূর্বের সাফল্য দিয়ে শিরোপা জেতা যায় না। প্রতিটি ম্যাচে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়।
আজকের ম্যাচ শেষে হয়তো বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় স্পেন এখনও থাকবে। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার-কাবো ভার্দে দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এই কারণেই বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর। এখানে কখনও কখনও ছোট্ট একটি দেশের স্বপ্ন, ফুটবল পরাশক্তির আত্মবিশ্বাসকে থামিয়ে দিতে পারে। আর সেই কারণেই আজকের দিনটি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম বড় চমক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জে/এ
লেখক : আকবর হায়দার কিরন, সাবেক ভয়েস অফ আমেরিকার সংবাদদাতা ও বিশিষ্ট ব্রডকাস্টার এবং লেখক ও সাহিত্যক।
