
সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী-
রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৫ টাকার অটোরিকশা ভাড়া এক লাফে ১০ টাকা করার ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ। জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি লিফলেটে গত ১৫ জুন থেকে সর্বনিম্ন অটোরিকশা ভাড়া ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি, সার্ভিসিং ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে ভাড়া বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নগরবাসীর অভিযোগ, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে স্বল্প দূরত্বে ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে। প্রতিদিন একাধিকবার অটোরিকশায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘মগের মুল্লুক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক প্রতিনিধি ও যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এক লাফে ভাড়া দ্বিগুণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ভাড়া বাড়াতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে বর্ধিত ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নগরবাসীর জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অটোরিকশা ভাড়ার বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও ন্যায় সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করা হবে। জে/এ
