
হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি-
আকস্মিক ভাবে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের বন্ধ থাকা ওয়ার্ডগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যেসব চিকিৎসা সেবা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০ টার দিকে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও চিকিৎসা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তারা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারা দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে গতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে ছোটোখাটো কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নে কার্যকর কোনো কাজ হয়নি। কাজ করলে জবাবদিহিতা থাকে, কিন্তু মানুষ যেন সেই বিষয়টিই ভুলে গিয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নেতৃত্ব ক্ষমতায় ছিল না। যারা রাতের অন্ধকারে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। আমরা গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত হয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী আমাদের কঠোর ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমরা কাজ করছি। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামী তিন মাসের মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালুর আশ্বাস দেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও ফলাফল স্থগিতের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন এবং সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জে/এ
