
আলী হোসেন,
বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিজয়নগর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মাকসুদুর রহমান। জানা গেছে, গত ২২ জুলাই (বুধবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের মৃত এনাম চৌধুরীর ছেলে মাসুদুল হক চৌধুরী (প্রদীপ)-এর বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিটারের বাইরে থেকে বাইপাস সংযোগ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রতি রাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেন। অভিযানের সময় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে হাতেনাতে ধরেন এবং তার বৈদ্যুতিক মিটার খুলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মাকসুদুর রহমান অবৈধ সংযোগের ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে বলে স্বীকার করলেও জরিমানার পরিমাণ, আদায়কৃত অর্থসহ অন্যান্য তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, চাকরি জীবনের আট বছরে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হননি এবং বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতের ‘ইন্টারনাল’ বা অভ্যন্তরীণ গোপনীয় বিষয়। তবে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এটি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। জনস্বার্থে দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরার মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি রোধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়, সিস্টেম লস বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। এছাড়া অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান বলেন, “অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অপরাধ কোনো গোপনীয় বিষয় হতে পারে না। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”নএদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মাসুদুল হক চৌধুরী (প্রদীপ)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে জনস্বার্থ আরও বেশি সুরক্ষিত হবে। জে/এ
