
দক্ষিণ ডিক্কুলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে পিয়ারুর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা
সম্প্রতি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকায় একটি বসতভিটা দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পিয়ার মোহাম্মদের দেওয়া বক্তব্য আমার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা ও বিরোধীয় জমি সম্পর্কে আমার বক্তব্য তুলে ধরছি।
প্রকৃত ঘটনা হলো, দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকার অধিকাংশ জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বিরোধীয় জমিটি আমি আবু নফরের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে মালিকানা অর্জন করেছি। জমিটির মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জমিটি সর্বপ্রথম মোহাম্মদ ইসলামের কাছ থেকে আবুল কালাম, আবুল কালামের কাছ থেকে নুরুল আলম মাস্টার, নুরুল আলম মাস্টারের কাছ থেকে আবু নফর, এরপর আবু নফরের কাছ থেকে মো. সিরাজ, মো. সিরাজের কাছ থেকে পুনরায় আবু নফর এবং সর্বশেষ আবু নফরের কাছ থেকে আমি, মোহাম্মদ রাসেল, ক্রয় করি।
আবু নফর জমিটি ক্রয় করার সময় পিয়ার মোহাম্মদ সিরাজের হয়ে ওই জমি দেখাশোনা করতেন বলে আমি জানতে পারি। পরবর্তীতে আবু নফর জমিটি নেওয়ার পর পিয়ার মোহাম্মদ ওই বাড়িতে আবু নফরের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। আমি জমিটি ক্রয় করার পরও পুরোনো ভাড়াটিয়া হিসেবে তিনি আমার ভাড়াটিয়া হিসেবেই সেখানে অবস্থান করতে থাকেন।
পরবর্তীতে বাড়িটি সংস্কার করার প্রয়োজন হওয়ায় আমি পিয়ার মোহাম্মদকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলি। কিন্তু তিনি বিভিন্নভাবে গড়িমসি করতে থাকেন। এর কয়েকদিন পর বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিজিবির হাতে তিনি আটক হন বলে আমি জানতে পারি। ওই সময় মানবিক কারণে তার স্ত্রী-সন্তানদের বাড়ি থেকে বের করে না দিয়ে তিনি জেলহাজত থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করি।
পরবর্তীতে তিনি জেলহাজত থেকে ফিরে আসার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল মোস্তফাসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মাধ্যমে আমাকে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে ওই বাড়িতে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এরপরও আমি বিভিন্ন সময়ে তাকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমানে তিনি বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করছেন বলে আমি মনে করছি।
আমি আরও জানতে পেরেছি, সিরাজ একজন বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী এবং পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে তার মাদকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও জমি-সংক্রান্ত সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমার আশঙ্কা, ওই সম্পৃক্ততার সূত্র ধরে এখন সিরাজকে সঙ্গে নিয়ে আমার ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন বাড়িটি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পিয়ার মোহাম্মদ বর্তমানে প্রচারিত তার বক্তব্যের সাথে সিরাজের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করছেন। আমার কাছে এটি তাদের নতুন কৌশলের অংশ বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এর আগে ২০২৫ সালে সিরাজ পিয়ার মোহাম্মদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন বলে আমার জানা আছে, যেখানে পিয়ার মোহাম্মদকে ওই জমির পাহারাদার হিসেবে উল্লেখ করে জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। বর্তমান প্রচারিত সিরাজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আবু নফরের কাছ থেকে জায়গাটি ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে পিয়ার মোহাম্মদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সিরাজের কাছ থেকে ওই জায়গা ২০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। এখানে প্রশ্ন রয়েই যায় ৭০ লাখ টাকার জমি কী করে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়! একই জমির মালিকানা ও ক্রয়মূল্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এমন অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে কথিত বক্তব্যের পরিবর্তে জমির মূল আইনগত কাগজপত্র যাচাই করা হোক।
এ অবস্থায় প্রশ্ন হলো আমি যদি আবু নফরের কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক হয়ে থাকি এবং তার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে থাকে, তাহলে আমাকে দখলদার হিসেবে প্রচার করার ভিত্তি কী? অপরদিকে, পিয়ার মোহাম্মদ যদি সিরাজের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকায় জমিটি ক্রয় করে থাকেন বলে দাবি করেন, তাহলে সেই ক্রয়ের বৈধ দলিল, মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা ও দখলের আইনগত ভিত্তিও প্রকাশ্যে যাচাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আমার সঙ্গে পিয়ার মোহাম্মদের যে বিরোধ চলছে, তাতে আবু নফরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আবু নফরের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছি এবং সেই ক্রয়ের ভিত্তিতেই আমার মালিকানা দাবি করছি।
এ অবস্থায় পিয়ার মোহাম্মদ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে আমি মনে করছি। তার এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আমার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, কোনো পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অপর পক্ষের বক্তব্যও যাচাই করা হোক। বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে কাগজপত্র যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হোক।
একই সঙ্গে পিয়ার মোহাম্মদকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, পিয়ার মোহাম্মদের প্রচারিত বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিরোধীয় জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল, ক্রয়-বিক্রয়ের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। আমি বিশ্বাস করি, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করা হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রতিবাদকারী
মোহাম্মদ রাসেল
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী
উত্তর ডিক্কুল, ৬নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার।