
মোঃ মহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি-
বাঘাইছড়ির মারিশ্যা জোনের আওতাধীন উদয়পুর, নতুনপাড়া ও কিংকরপাড়া এলাকায় জোন কমান্ডার মারিশ্যা এর মতবিনিময় সভা, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও মেডিকেল ক্যাম্পইন পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে জোন কমান্ডার, মারিশ্যা এর নেতৃত্বে মারিশ্যা জোন উদয়পুর বাজারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় জোন কমান্ডার মারিশ্যা, মেডিকেল অফিসার এবং উদয়পুর ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোঃ সাজ্জাদ রায়হান আকাশ এবং উদয়পুর, নতুনপাড়া ও কিংকরপাড়ার হেডম্যান/কারবারী ও প্রায় দুইশতাধিক স্থানীয় পাহাড়ী জনগন উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত মতবিনিয় সভায় জোন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উদয়পুর, নতুনপাড়া, কিংকরপাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া, এটি শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। যার কারণে উক্ত স্থানের জনগন প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা পেতে সমস্যার সম্মুখিন হতো। এখানে সীমান্ত সড়ক হওয়ার আগে স্থানীয় জনগন চিকিৎসা সেবার জন্য অনেক দুরে যেতে হতো। রোগীদেরকে নিয়ে যেতে যেতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়তো। বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সীমান্ত সড়ক তৈরী হওয়ায় এবং বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার কারনে খুব সহজেই নিরাপদে পাহাড়ী জনগন তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজীয় দ্রব্যাদি এবং চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদরে/অথবা অন্যান্য স্থানে চলাচল করার সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়াও জোন কমান্ডার উল্লেখ্য করেন যে, বর্তমান সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুশ-ইন সম্বদ্ধিত সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে বিজিবি এবং স্থানীয় জনসাধারণ সকলে একত্রিত হয়ে তা প্রতিহত করতে হবে।
এক্ষেত্রে জোন কমান্ডার ব্যক্ত করেন যে, আমারা বিজিবি সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থান হতে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে আপনাদের জান-মালের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছি। আমরা সকলে মিলে অবৈধ অনুপ্রবেশ , চোরচালান, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিহত করবো। উক্ত মতবিনিময় সভায় পাহাড়ী জনগনের পক্ষ হতে বিভিন্ন প্রতিনিধিরা কথা বলেন এবং জোন কমান্ডারের আশ্বাসে আশ্বস্ত হন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মতবিনিমিয় সভা পরবর্তী সময়ে জোন কমান্ডার স্থানীয় জনগনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পাহাড়ী নারীগণের মধ্যে যারা সেলাই এর কাজ করতে পারেন তাদেরকে সেলাই মেশিন প্রদান করেন এবং পনেরোটির অধিক পরিবারকে টিন বিতরণ করা হয় যাতে এই বর্ষায় তারা সুন্দরভাবে ঘরে অবস্থান করতে পারেন। এছাড়াও ১টি সুপেয় পানি ট্যাংকি প্রদান করেন যা স্থানীয় জনগনের সুপেয় পানির চাহিদা পুরনে সক্ষম হবে। এছাড়াও ১৫ জনেরও অধিক দুস্থ পাহাড়ীদেরকে চিকিৎসা সেবার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রায় ২ শতাধিক পাহাড়ী অসুস্থ্য নারী ও পুরুষদের মধ্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ঔষধ প্রদান করা হয়। মারিশ্যা জোনের মেডিক্যাল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা, এএমসি এর নেতৃত্বে এই মেডিকেল ক্যাম্পিইন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়াও জোন কমান্ডার জানান যে, পাহাড়ী জনগন আমাদের ভাই-বোন এদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করাই আমাদের দায়িত্ব কর্তব্যের অংশ। আমরা সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ী জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। এই ধরনের কার্যক্রম মারিশ্যা জোনের পক্ষ হতে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জোন কমান্ডার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জে/এ
