
ইফতেখার আলম, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি-
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দহ খানপুর এলাকায় প্রায় ৪৫ বছর ধরে অসহায় ও এতিম শিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা এবং লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা মমতাজুর রহমান এতিমখানা। ১৯৮১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজুর রহমান মানবিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৬ জন এতিম শিশু আবাসিকভাবে থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করছে। এছাড়া হাফেজখানায় ৪৬ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থী কোরআনের হিফজ শিক্ষা নিচ্ছে। এতিম শিশুদের জন্য লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ব্যয় দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কিছু সহায়তা পাওয়া গেলেও তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন জানায়, এখানে আমরা লেখাপড়া ও কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছি। নিয়মিত খাবার ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হয়ে সমাজ ও দেশের সেবা করতে চাই। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা লোকমান হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এতিম শিশুদের থাকা-খাওয়া, শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করে আসছি। সরকারি সহযোগিতা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এতিমদের আরও সুন্দরভাবে লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রবাসী এবং দানশীল মানুষের প্রতি এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভাবে অসহায় শিশুদের সেবা দিয়ে যেতে পারবে। জে/এ
