বৃহস্পতিবার ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩

ধুনটে শতবর্ষী বিদ্যালয়ের বেহালদশা, পাঠদান ব্যাহত

[print_bangla]

ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত আসমানী কবিতার সেই জরাজীর্ণ ঘরের চিত্র যেন বাস্তবে ফুটে উঠেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার শতবর্ষী দিঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির দুটি ভবনই জরাজীর্ণ। আর এই জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে বসেই পাঠদান করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কোথাও টিনের ছাউনি ফুটো, কোথাও পাকা ভবনের ছাদ ও দেয়াল খসে পড়ছে পলেস্তারা। তার ওপর রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চের তীব্র সংকট। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৬ সালে ৩৫ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদন পায়। ১৯৯২ সালে নির্মাণ করা হয় তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন। গত ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত হয় দুই কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভবন দুটির কোন প্রকার সংস্কার করা হয়নি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন সাতটি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে রয়েছে মাত্র পাঁচটি। কক্ষ সংকটের কারণে পঞ্চম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। একই সময়ে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ চলায় শ্রেণিকক্ষে শব্দ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এতে পাঠদানে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষকরা এবং ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ঘরের ছাউনির বিভিন্ন অংশ ফুটো হয়ে গেছে। দিনের বেলায় এসব ছিদ্র দিয়ে সূর্যের আলো শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। বৃষ্টির সময় একই ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে মেঝে ভিজে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের অন্য কক্ষে সরিয়ে নিতে হয়। ফলে এসময় বন্ধ রাখতে হয় পাঠদান।

পাকা ভবনটির অবস্থাও নাজুক। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে। দরজা-জানালার অবস্থাও ভালো নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি ব্যবহার নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় চত্বরে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। ধুনট-গোপালনগর আঞ্চলিক সড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ছুটির সময় বা অসাবধানতাবশত শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সড়কের কাছে চলে যাওয়ায় দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ের সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজও কোন উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য শিক্ষা বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধুনটে শতবর্ষী বিদ্যালয়ের বেহালদশা, পাঠদান ব্যাহত

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top