
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন-
১১ জুন-২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হয়েছে ২৩ তম বিশ্বকাপ। মজার ব্যাপার হ’ল এবার তিনটি দেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে এবং তিনটি দেশেই আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে। মেক্সিকোতে বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আর রাত একটায় এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় তারকা শাকিরার পারফরমেন্সসহ জমকালো আয়োজন ছিলো। অন্য দিকে ১২ জুন কানাডার টরেন্টো স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে মেক্সিকো শহরের ঐতিহাসিক মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে। মেক্সিকোতে স্টেডিয়ামটির নাম এস্তাদিও বানোর্তে, তবে ফিফা এটিকে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম হিসেবেই অভিহিত করছে। এর আদি নাম আজতেকা।
মেক্সিকোর আজতেকা একমাত্র স্টেডিয়াম যেখানে তিনটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করে। তখন মেক্সিকো ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। খেলাটি গোলশূন্য ড্র হয়ে ছিলো। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায়। সেবার আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে ছিলো ইতালি ও বুলগেরিয়া। এই খেলাটিও ড্র হয়েছিলো ১-১ গোলে। ১১/০৬/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ বাংলাদেশ রাত একটায় তৃতীয়বারের মতো আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এল ত্রি (তেরঙ্গা) মুখোমুখি হবে বাফানা বাফানাদের। এল ত্রি তথা মেক্সিকো ফিফা র্যাং কিংয়ে ১৪তম, আর বাফানা বাফানা তথা দক্ষিণ আফ্রিকা ৬০তম। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে মেক্সিকো ফেভারিট ছিলো। ফেভারিটরা তাদের সম্মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। খেলায় আধিপত্য বজায় রেখে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। খেলা শুরুর ৯ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন জে কিনিয়োনেস। প্রথমার্ধে আপ্রাণ চেষ্টা করেও দক্ষিণ আফ্রিকা গোল শোধ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে আর জিমেনেজ দ্বিতীয় গোল করে মেক্সিকোর বিজয় নিশ্চিত করে। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপের চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উপরে ১৯৬১ সালে আজতেকা স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়। নির্মানের সময় মেক্সিকানদের পূর্বপুরুষ আজতেক সভ্যতার প্রত্নতত্ত্বও পাওয়া গিয়ে ছিল সেখানে। স্টেডিয়ামটি নির্মানের জন্য ৬৫ হাজার বর্গমিটার জায়গা থেকে প্রায় ১৮ কোটি কেজি পাথর সরাতে হয়ে ছিলো।
আজতেকা স্টেডিয়ামেই ১৯৭০ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়, ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে। দ্যা বিউটিফুল গেম খেলে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতে পেলে অমরত্ব লাভ করে, পাকাপাকিভাবে জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয়। অর্থাৎ ব্রাজিলোর কালো মানিক পেলে পুরোপুরো বিকশিত হয়েছিলো এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই। ১৯৮৬ সালে এই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা শুধু চ্যাম্পিয়নই হয়নি, ম্যারাডোনোর সেই বিখ্যা ‘হ্যান্ড অব গড’ খ্যাত গোলটির সাক্ষীও এই স্টেডিয়ামের দর্শকরা। শুধু তাই নয়, ১১ সেকেন্ডে ইংল্যান্ডের ৯ জন অতিক্রম করে শতাব্দীর সেরা গোলটি দেন ম্যারাডোনা। কোয়ার্টার ফাইন্যালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফাইন্যালে জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা জিতে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ কিংবদন্তি খেলোয়ার পেলে ও ম্যারাডোনার সাফল্য ও স্বপ্নের স্টেডিয়াম আজতেকি, মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। পেলে ও ম্যারাডোনা দুজনেই এই স্টেডিয়াম থেকেই ট্রফি নিয়ে ফিরেছেন। জে/এ
লেখক-প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ। মোবাইল- 01712277552, ইমেইল-sahadot.hossain@gmail.com
