
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন-
বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফলতম দল ব্রাজিল। বিশ্বকে নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে যত রেকর্ড আছে তার প্রায় অর্ধেকেই ব্রাজিলের। চলতি বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (৫ বার), সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দল ব্রাজিল (১১৪ ম্যাচ), বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয় ব্রাজিলের (৭৬ জয়), সবচেয়ে বেশি গোলও ব্রাজিলের (২৩৭ গোল)। শুধু কি তাই, বিশ্বকাপে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড ব্রাজিলের (১৩ ম্যাচ), টানা বিজয়ী দল ব্রাজিল (১১ ম্যাচ), টানা ৩ বার ফাইনাল খেলা দল ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) এবং টানা ২ বার বিজয়ী দলও ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২)। এতসব রেকর্ডের মালিক ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে ১৪ জুন ভোর চারটায় মুখোমুখি হয় আফ্রিকার দেশ মরক্কোর। উল্লেখ্য যে, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো ফিফা র্যাংেকিংয়ের অষ্টম স্থানে রয়েছে, আর ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। অর্থাৎ বর্তমান ফিফা র্যাং কিং অনুযায়ী দুটো দলই কাছাকাছি শক্তিমত্তার।
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে ২১ মিনিটের মাথায় মরক্কোর আই সাইবারি গোল করে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে দেয়। অবশ্য সেলেসাওরা বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি। গোল হজম করার ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ খেলার ৩২ মিনিটের মাথায় ভি জুনিয়র মরক্কোর জালে বল ঢুকিয়ে খেলায় সমতা আনে। এরপর উভয় দল আপ্রাণ চেষ্টা করেও প্রতিপক্ষের জালে বল ঢুকাতে পারেনি। তবে খেলায় ব্রাজিলের আধিপত্য বজায় ছিলো। ব্রাজিলের বল দখল ছিলো ৫৪% আর মরক্কোর ৪৬%, অন্যদিকে ব্রাজিলের ৪৯৯ টি পাসের বিপরীতে মরক্কোর পাস ছিলো ৪৭৪ টি। তবে যেখানে ব্রাজিলের ৮৭% পাস ছিলো সঠিক, সেখানে মরক্কোর সঠিক পাস ছিলো ৮৮%। ফলে ১-১ গোলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রাজিলকে।
বিশ্বকাপের ২৩ টি আসরেই ব্রাজিল খেলেছে, আর মরক্কো এবার নিয়ে ৭ টি বিশ্বকাপ খেলছে। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সাফল্য যেখানে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন ও ২ বার রানার-আপ, সেখানে মরক্কোর সর্বোচ্চ সাফল্য সেমিফাইনাল খেলা। তাই ড্র করতে পেরেই স্বস্থিতে আছে আটলাস লায়ন্সরা। কে না জানে ব্রাজিল মানেই রেকর্ড। তাই, নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করেও ব্রাজিল রেকর্ডের মধ্যেই থাকলো। এর মাধ্যমে ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত থাকলো ব্রাজিল। দিনের অপর ম্যাচে স্কটল্যান্ড ১-০ গোলে হাইতিকে এবং অস্ট্রেলিয়া ২-০ গোলে তুরস্ককে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে।
১৪ জুনের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সফল দল জার্মানি হিউস্টনে মুখোমুখি হয় কুরাসাওর। ২০১৪ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। আজ কুরাসাওর বিরুদ্ধে সে জ্বালাই যেন মিটালো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ আটটি ফাইনাল খেলা জার্মান জায়ান্টরা। আপাতত চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল করে যাত্রা শুরু করে ডাই মানশাফটরা। খেলার ৬ মিনিটের মাথায় এফ কে এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় ৩৮ বছর বয়সী তরুণ কোচ ইউলিয়ান নাগালসমানের শিষ্যরা। কিন্তু প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও ১৫ মিনিটের মাথায় তাদের সে সুখ কেড়ে নেয়। কুরাসাওয়ের এল কমেনেন্সিয়া ২১ মিনিটের মাথায় গোল করে খেলায় সমতা আনে।
স্বাভাবিক ভাবেই খেলায় সমতা ফেরায় জার্মানদের ইগোতে লাগে। পরের প্রতিটি মুহূর্তে কুরাসাওর উপর প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করে জার্মানরা। ৩৮ মিনিটে এন শ্লটারবেক ও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কে হাভেরটজ পেনাল্টি থেকে গোল করে জার্মানিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরো শক্তি, আরো গতি নিয়ে মাঠে নামে জার্মানরা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার দু’মিনেটর মাথায় অর্থাৎ খেলার ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার গোলে ব্যবধান আরো বৃদ্ধি করে জার্মানরা। আর ৬৮ মিনিটের সময় পঞ্চম গোল করে ব্যবধান ৫-১ করে নেয় এন ব্রাউন। না এখানেই থেমে থাকেনি চারবারের চ্যা্ম্পিয়ানরা। ৭৮ মিনিটে ডি উন্দাব এবং ৮৮ মিনিটে আবারো কে হাভেরটজ গোল করে ব্যবধান ৭-১ এ নিয়ে যায়। বহুদিন পর চিরচেনা রূপে ফিরে এসেছে জার্মানরা। ছোট ছোট পাস, প্রতিপক্ষের অংশে খেলা, লম্বা শটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ, প্রতিপক্ষের ভীড়ের মাঝে ফাঁকফোকর দিয়ে বল পাস, চলন্ত অবস্থাতেই বল পাস এবং প্রয়োজনে প্রচন্ড গতি সবই ছিলো এ ম্যাচে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এ সমন্বয় অব্যাহত থাকলে পঞ্চম ট্রফির প্রত্যাশা করতেই পারে জার্মানরা। জে/এ
লেখক-প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ। মোবাইল- 01712277552, ইমেইল-sahadot.hossain@gmail.com
