
জহির সিকদার, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিএনপি নেতা রুস্তম আলীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. মাসুদ আলমসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সংক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ জহিরুল ইসলাম জারু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, উপজেলা জিয়ামঞ্চের আহ্বায়ক মো. ওসমান, বিএনপি নেতা শিপন সিকদার, আহসান উল্লাহ, দানা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাসুদ আলম ও তার ভাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, “মাসুদ আলম ও তার ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শেখ পরিবারের আত্মীয় হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা রুস্তম আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিতর্কিত এনএসআই কর্মকর্তা মাসুদ আলম ফ্যাসিবাদী আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নিয়োগ ও বিতর্কিত নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বালুবাহী ট্রাক রাখাসহ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে নানা কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে।” উল্লেখ্য, গত ৪ জুন উপজেলার খাড়াসাড় তিন রাস্তার মোড়ে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা রুস্তম আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় রুস্তম আলীর ছোট ভাই ও যুবদল নেতা সোহেল আহমেদ বাদী হয়ে এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. মাসুদ আলমসহ ১৪ জনকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রুস্তম আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ আলমসহ কোনো আসামির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জে/এ
