
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন-
আলজেরিয়ার সাথে আর্জেন্টিনা জিতবে এটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু এই খেলায় লিওনেল মেসি হ্যাট্রিক করবে, তা কারোর ধারণাতে ছিল না। তবে সাধারণ মানুষের যা ধারণার বাইরে, সেইটা হেসে খেলে করে দেখানোই মেসির কাজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ১৭ জুন সকাল ৭ টায় গত বারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে। ফিফা র্যাংকিং এর শীর্ষে থাকা দলটির প্রতিপক্ষ ছিলো র্যাংকিংয়ে ৩১ নম্বরে থাকা আলজেরিয়া।
বিশ্বের তাবৎ ফুটবল প্রেমীদের চোখ ছিলো এই খেলার দিকে। আর বাংলাদেশে ছিলো ফুটবল উন্মাদনা। কেননা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সমর্থক আর্জেন্টিনার। ফলে খুব সকালে খেলা হলেও এখানে দর্শকের কোন কমতি ছিলো না। বাসায় টিভির স্ক্রিনে ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। এছাড়া গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় বড় মিছিল সমাবেশ হয়েছে।ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। জয়টা প্রত্যাশিতই ছিলো। কিন্তু লিউনেল মেসি যে যাদুকরী কিছু দেখাবেন সেটা হয়তো কেউ ভাবেনি। মেসি তাঁর ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নেমেছিলো। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাট্রিক করে তিনি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনার জয় এনে দেন। খেলা শুরুর ১৭ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন মেসি। আর দে পোলের বল পেয়ে যথাযথ ভাবে কাজে লাগান তিনি। গোল খেয়ে আলজেরিয়া তাদের গতি বাড়িয়ে দেয়। বেশ ভালো খেলেও প্রতিপক্ষের জালে বল ঢুকাতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা যেন জ্বলে ওঠে। ৬০ মিনিটের সময় দৃষ্টি নন্দন গোলটি করে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন ফুটবল কিংবদন্তি মেসি। সারা মাঠ, সারা আর্জেন্টিনা, সারা বিশ্ব আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। পর পর দুই গোল দেয়ায় ফুটবল প্রেমীদের মনে উঁকি দিতে থাকে হ্যাট্রিকের স্বপ্ন।কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ের কথা কিভাবে যেন টের পেলেন হ্যান্ডস অব গড খ্যাত ম্যারাডোনার ভাবশিষ্য লিউনেল মেসি। দ্বিতীয় গোলের ১৬ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৭৬ মিনিটে হ্যাট্রিক গোল করে ভক্তদের আশা পুর্ণ করেন। মেসি তৃতীয় গোলটি করেন এন গনসালেসের সহায়তায়।নিজে শুধু হ্যাট্রিকই করলেন না, সেই সাথে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও যুক্ত হলেন। বিশ্বকাপে সবোর্চ্চ ১৬ গোল করে লিউনেল মেসি এখন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে সবোর্চ্চ গোলের মালিক। দীর্ঘদিন ধরেই মিরোস্লাভ ক্লোসা এককভাবে সবোর্চ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি দখল করে রেখেছিলেন। ১২ বছর পর এতে ভাগ বসালেন মেসি। আর একটি গোল করতে পারলেই লিউনেল মেসি এককভাবে সবোর্চ্চ গোলদাতা হবেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (বিশ্বকাপে ১৪ গোল) ছাড়া আর কারো পক্ষে এই রেকর্ড আপাতত ভাঙ্গার সম্ভাবনা নেই। জে/এ
লেখক-প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ। মোবাইল- 01712277552, ইমেইল-sahadot.hossain@gmail.com
