সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ভাণ্ডারিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ- তদন্ত কমিটি গঠন

[print_bangla]

এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অভিযোগগুলো অধিকতর তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরে। ইউএনও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।

ইউএনও জানান, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার ও সোমবার তিনি দুই দফা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। এ সময় অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবেদ সরকারকে আহ্বায়ক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্য করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

ইউএনওর আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষক মিলনায়তনে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল।

মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান জানান, শিক্ষকদের হাজিরা নেওয়ার পর হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রেখে তিনি কক্ষটি তালাবদ্ধ করে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেছেন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও দুই দফা বিদ্যালয়ে তদন্ত করেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের পোশাক নিয়ে কটূক্তি ও হয়রানি করেছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষকের অভ্যন্তরীণ বেতন বন্ধ রাখার অভিযোগও করেন তারা।

শিক্ষকদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রসিদ ও যথাযথ ভাউচার ছাড়া বিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলন, অর্থের যথাযথ হিসাব না দেওয়া, সাময়িক বরখাস্ত ও পুনর্বহালের সুযোগ দেখিয়ে অর্থ দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্যারা-টিচার নিয়োগ এবং ওই শিক্ষকের মাধ্যমে ছাত্রীদের প্রাইভেট ও কোচিং পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ।

এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, টিসি বা ছাড়পত্র এবং কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন শিক্ষকরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষকদের আরও দাবি, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদারের করা একটি মামলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউএনওর কাজ ইউএনও করবেন, আর আমি আমার কাজ করব।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ভাণ্ডারিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ- তদন্ত কমিটি গঠন

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top