
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই ইজতেমা আয়োজন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইজতেমার সময়সূচি নিয়ে সাদপন্থী মুরব্বিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। দুই পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে তাবলিগের দুই পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। আগের সরকারের সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেখানে সাদপন্থীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার কথা ছিল।
তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সাদপন্থী প্রতিনিধিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তাদের পক্ষ থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের সময়ের তুলনায় দেশের অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের হারও কমেছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার উদাহরণ হিসেবে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ওই ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি বা অসহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার নিয়মিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্থিতিশীল রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এ সময় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।