
রাজশাহী সংবাদদাতা:
রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক ও সমৃদ্ধ এক জনপদ ‘ধুরইল’। ষাটের দশকের পর থেকেই এলাকাটি নানা কারণে আলোচনায় আসে। গ্রাম্য ঐতিহ্য, মানুষের মেলবন্ধন আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে ওঠা ব্যবসাই ধুরইলকে করে তুলেছে অনন্য।

কালের বিবর্তনে এই গ্রামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এর জমজমাট হাট-বাজার। সত্তর দশকের দিকে ধুরইলে সপ্তাহে দুই দিন—শনিবার ও বুধবার নিয়মিত হাট বসত। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০০০ সালের পর থেকে এই হাটের ব্যাপ্তি আরও বাড়ে। সপ্তাহের চার দিন—শনিবার ও বুধবার মূল হাটের পাশাপাশি সোমবার ও শুক্রবার বসতে শুরু করে ‘জায়ের হাট’।
২০২০ সালের পর থেকে ধুরইল গ্রামের বাজার ব্যবস্থায় আসে আরও বড় পরিবর্তন। এখন প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারের পাশাপাশি লোকজনের নিত্যদিনের কেনাকাটার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাজারের একটি বিশেষ অংশ, যা এখন পরিচিত ‘ভাইরাল মোড়’ নামে।
তবে ধুরইল বাজারের এই ‘ভাইরাল মোড়’-এর মূল আকর্ষণ হলো এখানকার বিশেষ ‘ভাইরাল মুড়ি’। এই মুড়ি বিক্রির নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে রয়েছেন মোঃ শামিম হোসেন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ভাইরাল মুড়িওয়ালা শামিম’ নামে অত্যন্ত পরিচিত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা বাজলেই তাঁর দোকানে জটলা বাঁধতে শুরু করে খাদ্যরসিকদের। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোড়টি থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। ১০ বছরের কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে ৪০ বছরের তরুণ-যুবক, এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে আসা সব বয়সের নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এখানে। সবাই এক নজর দেখতে এবং শামিমের হাতে বানানো এই বহুল আলোচিত মুড়ির স্বাদ নিতে আসেন।
শুধু এই ‘ভাইরাল মুড়ি’ই নয়, বিকেল নামলেই এই মোড়ে পাওয়া যায় মচমচে পেঁয়াজু, সিঙাড়া, গরম গরম জিলাপি সহ বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, যা রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে বিক্রি হয়।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ধুরইল গ্রামের ইতিহাস যেমন পুরনো, তেমনি এর রূপান্তরের গল্পও অনুপ্রেরণাদায়ক। ষাটের দশকের শান্ত ধুরইল গ্রামটি আজ প্রযুক্তির যুগে এসে মোঃ শামিম হোসেনের মতো উদ্যোক্তা এবং তাঁদের চটপটে উদ্যোগের কারণে এক খাবার ও আড্ডার অনন্য কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই হাটের ব্যস্ততা এবং ‘ভাইরাল মুড়ি’র জনপ্রিয়তা ধুরইল গ্রামকে মোহনপুর ছাড়িয়ে পুরো রাজশাহী বিভাগেই এক নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে।