
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি–
বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ জেলা শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাস মালিক সমিতি এবং ইজিবাইক শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও আঠারো মাইল এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি ইজিবাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাদের ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের প্রধান প্রধান সড়কে ইজিবাইক চলাচল এবং স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাস মালিক ও ইজিবাইক চালকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আঠারো মাইল এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় এবং সেখানে বেশ কয়েকটি ইজিবাইক ভাঙচুর করে সড়ক অবরোধ করা হয়।
এই ঘটনার রেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। দুপুরের দিকে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও এর আশেপাশের কয়েকটি স্থানে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধরা ১৫ থেকে ১৮টি ইজিবাইক পিটিয়ে ও ইটপাটকেল মেরে ভাঙচুর করে।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা। ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় সংঘর্ষে লিপ্ত পক্ষের লোকজন সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কর্তব্যরত সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে এবং তাদের পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের কারণে ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ছোট যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের তীব্র গরমে সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশ জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সড়ক থেকে অবরোধ হটাতে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই পক্ষের নেতার সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং যানবাহন চলাচল আংশিক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।