
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙারি মালামাল বিক্রির কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা (৪০) ও মো. সোহাগ হাওলাদার (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুস সালাম মৃধার ছেলে। সোহাগ হাওলাদার একই এলাকার আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে স্ক্র্যাপ ও ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়িক সূত্রে ভাণ্ডারিয়ার সুমন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর ভাঙারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে তিনি ভাণ্ডারিয়ায় আসেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন সকাল ১১টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আসাদুল। পরে সাগর নামের এক ব্যক্তি তাকে গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ধাওয়া ইউনিয়নের গোড়াখাল এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেখানে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে আসাদুল মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যান এবং পরে রাজপাশা এলাকার মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া তার বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং নগদ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আসাদুল। পরে জোরপূর্বক সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর আদায় করে একটি এটিএম বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। জিম্মি অবস্থায় তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি পাঠানো এবং এসব ছবি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর মুক্ত হয়ে আসাদুল প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদার, মো. সোহাগ মৃধা, অরুণ বৈরাগী, সাগর মণ্ডল, মো. সোহাগ হাওলাদার, সুকান্ত, সুমন ও সঞ্জয়সহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পর ৯ সেপ্টেম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা এলাকা থেকে সোহাগ মৃধা ও সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ভাঙারি ব্যবসায়ীকে মারধর ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ মৃধা ও সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।