
সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী
ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, রাজশাহী (আইএইচটি)-কে কেন্দ্র করে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ-এর মধ্যে কথিত ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি আইএইচটি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তারা সহযোগিতা করায় একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি বড় পরিসরে ও সফলভাবে আয়োজনের পর থেকেই তাদের ঘিরে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কাজে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছেন বলেও জানান।
অসীম কুমার ঘোষ বলেন, তিনি কী কারণে ছুটি নিয়েছেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ বিষয়ে তাঁর কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কাউকে জানানো তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ বলেন, তাঁর বাড়ি পাবনায় এবং তিনি ছুটি নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তাঁর বাবার কাছ থেকে তথ্য না পাওয়ার বিষয়ে মৌ বলেন, তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণে তাঁর বাবা রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা অপরিচিত কারও কাছে তাঁর অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বাবার কাছ থেকে তথ্য না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি করা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
মেহেরুন নাহার মৌ বলেন, একজন নারী হিসেবে তাঁর নামে এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণার কারণে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সত্যের সঙ্গে থাকলে কোনো অপশক্তিই আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’
নবীনবরণ ঘিরেই কি অপপ্রচার?
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর দাবি, আইএইচটি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তাদের সহযোগিতার বিষয়টিই একটি মহলের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত চরিত্র ও সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, এর আগে আইএইচটিতে এত বড় পরিসরে ও সফলভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি বড় পরিসরে আয়োজন ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় একটি মহল এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তবে কারা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম জানাননি তারা।
‘অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন’
শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ দুজনই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন।
তাদের বক্তব্য, কোনো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, চরিত্র কিংবা পারিবারিক মর্যাদা নিয়ে প্রচারণা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো অব্যাহত থাকলে বিষয়টি আর শুধু সামাজিক প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দুজন অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইএইচটি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।