সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ

[print_bangla]

সিরাজুল ইসলাম রনি , রাজশাহী-

রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহাম্মদ হোসেন মাসুম।সোমবার রাজশাহী রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, গতকাল যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন টিকিটবিহীন যাত্রীকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে যে বিষয়টির সৃষ্টি হয়েছিল, তা সমাধান হয়ে যায়। পরে একজন শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাষ্ট্রীয় সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রাতে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় রেলশ্র মিকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই শ্রমিকদের বরখাস্ত করার বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বোঝানো হলে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সম্মত হন। রেলের এই কর্মকর্তা বলেন, আজ সকাল ১১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রাজশাহীর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে রেলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি এবং বিভাগীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি নিজ নিজ কাজ করবে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, কেন যেন মনে হচ্ছে, রেলওয়ে বনাম শিক্ষার্থী এমন একটি প্রতিপক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসী তথা বাংলাদেশের জনগণের জন্য দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই আমাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। বরং রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসব, তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। যাতে কোনো ধরনের দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, কোনো ক্ষোভ বা অসন্তোষ যেন শেষ পর্যন্ত জনগণের সম্পদের ওপর গিয়ে প্রকাশ না পায়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্টেশন পরিদর্শনের বিষয়ে আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ভাঙচুরে রেলওয়ের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখতে তিনি স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। তাঁর সঙ্গে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন,যখন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছিল, তখন আমরা স্টেশনে ও কন্ট্রোলে ছিলাম। বিভাগীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আলোচনা চলছিল।
তিনি বলেন, ভাঙচুরের সময় একটি আন্তনগর ট্রেন স্টেশনে অবস্থান করছিল এবং তাতে যাত্রীরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহাম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমরা বসব, আলোচনা করব। কারও প্রতি ক্ষোভ থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ যাত্রীরা কোনোভাবেই যেন ক্ষতির শিকার না হন। যারা কিছু না জেনে গণপরিবহনে যাতায়াত করতে এসেছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কোনো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কাউকে দায়ী করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হওয়ায় আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর রেলশ্রমিকদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করেন। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top