
কক্সবাজার হোয়াইট টেম্পলে মহাসমারোহে শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত
মোঃ মোরশেদ,(জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।
কক্সবাজারের কলাতলীস্থ অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধ বিহার ও ধ্যান কেন্দ্রে (হোয়াইট টেম্পল)
“দানে দুর্গতি খণ্ডিত হয়” এই অহিংস বাণীর আলোকে এবং নির্বাণ সুখ কামনায়,উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২৫৭০ বুদ্ধাব্দ’।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬ / ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ২৫৭০ বুদ্ধবর্ষ) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দানোত্তম ও দানরাজ উৎসব সম্পন্ন হয়।
বৌদ্ধ ধর্মানুসারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিন পূর্ণিমা পর্যন্ত ৩ মাসব্যাপী বর্ষাব্রত পালন শেষে ভিক্ষুসংঘ শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা অনুশীলনের মাধ্যমে বর্ষাব্রত যাপন করেন। এই বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘের অর্জিত বিশেষ মর্যাদার ফল হিসেবে কঠিন চীবর (চিরাচরিত নিয়মে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি, রং করা এবং সেলাই করে প্রস্তুতকৃত বিশেষ চীবর) দান করা হয়।
বৌদ্ধ শাস্ত্রমতে, বস্তুদানগুলোর মধ্যে কঠিন চীবর দান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান। একটি বিহারে বছরে মাত্র একবারই এই দান করার সুযোগ থাকে। এই দানে ভিক্ষুসংঘ এবং সাধারণ দায়ক-দায়িকারা বিশেষ পুণ্যফল লাভ করে থাকেন।
উপস্থিত ছিলেন কলাতলী হোয়াইট টেম্পলের সভাপতি করোনাস্রী মহাথের-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান পন্ডিত ভিক্ষুসংঘ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানপ্রিয় মহাথের, জ্যোর্তিসেন মহাথের, ভদ্দীয় বোধি থেরসহ বিশিষ্ট বৌদ্ধ পন্ডিত ও সমাধিরা।
ঐতিহাসিক রামু রামকোট বৌদ্ধ তীর্থস্থানের পরিচালক জ্যোর্তিসেন ভিক্ষুর সুযোগ্য পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান ব্রতী ও বিভিন্ন দাতা পরিবারের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
প্রয়াত ও জীবতদের কল্যাণ কামনায় দান নির্বাণ সুখ কামনায় অনুষ্ঠানে প্রয়াত মনিন্দ্র বড়ুয়া, পরিবালা বড়ুয়া (মছদিয়া, লোহাগাড়া), এবং সারঙ্গ বড়ুয়া ও কণ্য প্রভা বড়ুয়ার (শীলকূপ, বাঁশখালী) আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। পাশাপাশি মোহন বড়ুয়া, প্রতিভা বড়ুয়া, দুর্জয় বড়ুয়া অপু, রূপজয় বড়ুয়া রুপুসহ সৈকতপাড়া, ১২নং ওয়ার্ড, কলাতলীর সকল দায়ক-দায়িকার মঙ্গল কামনায় এই দান উৎসর্গ করা হয়।
কক্সবাজার অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধ বিহার ও ধ্যান কেন্দ্র (হোয়াইট টেম্পল)-এর সকল দায়ক-দায়িকার সার্বিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক অনুদানে এই মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিহার প্রাঙ্গণে মিলনমেলা বসে এবং ১ হাজারের অধিক পুণ্যার্থী ও অতিথির জন্য প্রীতিভোজ ও মহাভোজন দান সম্পন্ন হয়।