
ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভুতবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর বসবাস করেন মোখলেছুর রহমান। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর এই বাঁধই হয়ে উঠেছিল তার পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ ঠিকানা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট্ট একটি ঘর তুলে সেখানে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। পাশাপাশি বাঁধের ওপর চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, একই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম তার সেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিতে চাইছেন। মোখলেছুর রহমানের অভিযোগ, জহুরুল ইসলাম তার বসতঘর উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে বেঁচে থাকা পরিবারটির জীবনে এবার নতুন দুশ্চিন্তা হারাতে বসেছেন শেষ আশ্রয়টুকুও।
মোখলেছুর রহমানের জীবনে নদী কেড়ে নিয়েছে পৈতৃক ভিটা, দারিদ্র্য কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ। এখন শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর শঙ্কা তার চোখে-মুখে। যে বাঁধের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনোরকমে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনেছেন, সেখান থেকেও উচ্ছেদ হলে পরিবারটি কোথায় দাঁড়াবেন সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো একজন প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে বাঁধের উপরের ছোট্ট ঘরটিই শুধু বসতবাড়ি নয়, এটুকুই তার পরিবারের শেষ আশ্রয়।
এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান বাদি হয়ে রোববার দুপুরে জহুরুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন, মোখলেছুরের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়নি। তার বাড়ির সামনে বাঁধের উপর একটি দোকার ঘর তৈরী করার জন্য সামান্য জায়গা চেয়েছি। এ কারণে আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।