সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি: মির্জা ফখরুল ইসলাম

[print_bangla]

এম আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার-

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন, তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার কবি।
(৮ মে শুক্রবার) বেলা ১১ টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রায়ের পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বকবির কর্মজীবনের বিরল স্থান এই পতিসর। আর এই প্রতিসরে ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে আসার লোভটা সামলাতে পারিনি। আপনাদের এলাকার এমপি যখন আমাকে বললো, তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছি। কারণ এখানে ২২ বছর আগে একবার এসে ছিলাম। সেই জন্য আমি লোভ সামলাতে পারিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে রবীন্দ্র তাঁর জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরে করেছেন। রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন তিনি কৃষকদের দুঃখ দূর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করে ছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করে ছিলেন৷ শুধু তাই নয়, তিনি একটা কৃষি ইন্সটিউট শুরু করে ছিলেন। এটি তার জীবনের এবং কাজের সঙ্গে কবিতার বাইরের ব্যাপার ছিলো। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি ২২ বছর পর এলেও ঠিক তেমন কোনো পরিবর্তন দেখলাম না। প্রায় একই রকম, রাস্তার দুই পাশে সেই ধানে ক্ষেত, ধান এখন পাঁকছে, কাটার জন্য তৈরি হয়ে গেছে, কোথাও কাটাও হচ্ছে। তখন আমার মনে পড়ল সেই কথা-“রাশি রাশি ভারা ভারা, ধান কাটা হল সারা”। এই উপলব্ধি গুলো কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভিতর থেকে আমাদের উদ্যেশে।

উপস্থিত নারী-পুরুষদের উদ্যেশে তিনি বলেন, প্রিয় ভাইবোনেরা আমি কোনো তাত্ত্বিকও নই, কোনো পন্ডিতও নই। সাহিত্যের উপর বিশেষ কোন পাণ্ডিত্য নাই। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবিন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্যসহ সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কোনকিছু লিখতে পারিনা। আসলে যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শুনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শুনে, গান গায় সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি যখন ছোট শিশু ছিলাম, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকাল বেলা হাটতে বের হতেন এবং ফিরে এসেই তিনি রবীন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। “এ কথা জানিতে তুমি, ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান, কালশ্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধনমান”। তাঁর এসব কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিলো। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন। যার ফলে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই জন্য আমার প্রায়ই মনেহয় রবিন্দ্রনাথকে সারা জীবন পড়লেও পড়া যায়না। তাই তাঁর কবিতা আবৃতি করার লোভ সামলাতে পারিনা। “আজই এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পলিশ গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান! না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ, জাগিয়া উঠিল প্রাণ!”
মহাসচিব বলেন, রবীন্দ্রনাথকে অনেকে মনে করেন কিছুটা সাম্প্রদায়িক ধাচের, কিন্তু আমি মনে করি সেখানে তাদের জ্ঞানের অভাব আছে, অনুভবের অভার আছে এবং তারা পরিস্কার করে বোঝেন না। রবীন্দ্রনাথ আসলে বিশ্ব মানবতার কবি। এবং তাঁর কবিতার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে সেইভাবে সাজাতে পারি। তাঁর একটি গান আমার খুব পছন্দ হয়, আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে এই গানটা অপূর্ব সুন্দর। তার মধ্যে একটা কথা আছে “চারেদিকে দেখ চাহি নয়ন মেলিয়া, ক্ষুদ্র দু:খ সবই তুচ্ছ মাহি!” স্থানীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাঙ্গালীদের সমালোচনা করতেও কিন্তু ছাড়েননি। তিনি তাঁর দুরন্ত আশা কবিতার মধ্যে বলেছেন. “কাগজ নেড়ে উচ্চস্বরে পলিটিকাল তর্ক করে, মাথায় ছোট বহরে বড় বাঙ্গালী সন্তান। ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন। চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন। ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি, চলো সিঁড়ি সিঁড়ি “ এই কবিতার ভিতরের যে কথা এতেই তিনি দার্শনিক।
রাজনীতি প্রসঙ্গে ফকরুল বলেন, ভাই ও বোনেরা আমরা রাজনীতি করি, সারা জীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশের রাজনীতি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়ায় করেছে, যুদ্ধ হয়েছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি আত্রাই জনগণকে একটু ভিন্নভাবে চিনি। এই আত্রাইয়ের মানুষ বিপ্লবী মানুষ। আত্রাইয়ের মানুষ একদিকে পাকিস্থানে বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছে অন্যদিকে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও তারা যুদ্ধ করেছে। কাজেই আমরা সমস্ত হানাদার বাহীনির বিরুদ্ধে, আমরা আধিপত্যের বিরুদ্ধে। আমরা মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চাই। কাজেই আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ। এই কথা মধ্যে অনেক তাৎপর্য আছে। অথচ আমাদের কেউ বলে ভারতের পক্ষে, আবার কেউ বলে পাকিস্থানের পক্ষে, মার্কিনীদের পক্ষে। আমরা শুধু বাংলাদেশের পক্ষে।
মহাসচিব বলেন, এমনিতে আমাদের অনেক কষ্টে গেছে। ফ্যাসিস্টদের নির্যাতনে আমাদের অনেক ভাই-বোন নির্যাতিত হয়েছে। এখানকার অনেক ভাই আমার সাথে কেরানীগঞ্জের কারাগারে ছিল। কাজেই আমরা সবাই মিলে যুদ্ধ করেছি। জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করলো। আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। আমরা জুলাই যুদ্ধকে অনেক বড় করে দেখি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরিবর্তন এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন একটা পার্লামেন্ট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের অনেক আশা-প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আবার চারেদিকে দেখছি, আমরা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছি। যারা ফ্যাসিস্ট ছিলো তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বিদেশে টাকা পাচার করেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায় করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অথচ আজ অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আমরা কেউ চাইনা আর দেশে কোন গোলযোগ হোক।
কৃষকদের উদ্যেশে ফখরুল বলেন, মাঠে প্রচুর ধান কাটছে কৃষকেরা। আপনারা ধানের নায্য মূল্য চান। ধান ফলাতে যে সার ও বীজ লাগে, সেটা যেন সঠিকভাবে পান। তারেক রহমানের সরকার এই জিনিসগুলো ঠিক করতে চেষ্টা করছে। খাল খনন শুরু হয়েছে। এরফলে পানি ধরে রেখে কৃষি কাজে ব্যবহার করা হবে। এই জন্য কৃষক কার্ড শুরু করেছেন। মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট কথা এই দুই মাসের মধ্যে তারেক রহমান দেশে একটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি মিতব্যায়ী জীবন যাপন করেছেন। তাঁর নির্দেশেই দেশে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী পালন হচ্ছে।
উপস্থিত জনগণের উদ্যেশে মির্জা ফকরুল বলেন, দেশে একটা হতাশাবাদী গোষ্টি আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোন নিদিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাইনা। আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে সাতন্ত্র পরিচয় যে আমরা বাংলাদেশী এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয়মাস যুদ্ধ যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গনতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গনতন্ত্র ফিরি পাইনি। আবারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতা, “যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে, সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি অন্ধ বন্ধ কোরো না পাখা!” আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের উদ্যেশে বলেন, যেতে হবে আমাদের, কূলে পৌঁছাতে হবে-এটাই হবে আমাদের লক্ষ্য। পরিশেষে আত্রাইবাসীর উদ্যেশে নওগাঁ-৬ আসনের আত্রাই ও রাণীনগর এই দুই উপজেলাকে পৌরসভা এবং একটি ব্রীজ করার প্রস্তুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে আপনাদের ব্রীজও হবে, পৌরসভাও হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নওগাঁ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের এমপি মো. এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী), রাজশাহীর উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান আলী,সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মো, হরুন অর রশীদ, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। এর আগে প্রধান অতিথি পতিসরে পৌঁছালে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষীকির উদ্বোধন করেন। এরপর কবিগুরুর কাচারি বাড়ি দেবেন্দ্র মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগের প্রফেসর ড. মো: হারুন অর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এরপর বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, হুইপ এ্যাড. এম রুহুর কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ মো: রেজাউল ইসলাম রেজু ও সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দগণ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন গোলাম সাকলাইন ও সিঁথি সাহা। আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার মো, রাকিবুল ইসলাম এবং মো, মনিরুজ্জামান। এ উপলক্ষে রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এবং দেবেন্দ্র মঞ্চে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় রবীন্দ্র গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। সরকারি ভাবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও স্থানীয় ভাবে আরো কয়েকদিন এ উৎসব চলে। এসময় পতিসর কাচারি বাড়িতে কবিগুরুর ভক্তদের পদচারণায় এক মিলনমেলায় পরিনত হয়। কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পতিসরে বসে এক গ্রামীণ মেলা। আর এ দিনকে ঘিরে স্থানীয়দের বাড়িতে বাড়িতে চলে উৎসবের আমেজ।
উল্লেখ, জেলার আত্রাই উপজেলার নাগর নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা নিভৃত পল্লী পতিসর কাচারি বাড়ি। কবিগুরু জমিদারী প্রাপ্ত হয়ে প্রথম পতিসরে আসেন ১৮৯১ সালে ১৫ জানুয়ারিতে। এরপর থেকে কবি ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত নাগর নদ দিয়ে বজরায় চড়ে নিয়মিত এই কুঠি বাড়িতে আসতেন। সবশেষ আগমণ ঘটে ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাইয়ে। এখানে বসেই রচনা করেছেন অনেক কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। কবিরগুরুর বিখ্যাত কবিতা আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে, তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, দুই বিঘা জমি, বিখ্যাত উপন্যাস গোড়াসহ অসংখ বিখ্যাত সাহিত্য কর্ম এই পতিসরে বসেই রচনা করে ছিলেন। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি: মির্জা ফখরুল ইসলাম

০৯ মে ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top