
আলী হোসেন, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো ও আকর্ষণীয় লিচু। অনুকূল আবহাওয়া, সময় মতো পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফলন ভালো হওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরা। তবে মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে লিচুতে পচন ও ফাটল দেখা দেওয়ায় কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিজয়নগরের পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, চম্পকনগর ও সিংগারবিল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে ফলনশীল বাগান। চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ অঞ্চলের জনপ্রিয় লিচুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে মুম্বাই, পাটনাই, চায়না-২ ও চায়না-৩। উন্নত স্বাদ ও মানের কারণে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিজয়নগরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাগান মালিক জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে অনেক বাগানে লিচু ফেটে যাচ্ছে এবং পচন ধরছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে কিছু চাষি অভিযোগ করেছেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের দাবি, নিয়মিত পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ পেলে উৎপাদন আরও ভালো হতো এবং ক্ষতির পরিমাণও কমানো যেত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দিতে নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করা হচ্ছে। লিচুর রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত সমস্যার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর বিজয়নগরে লিচুর উৎপাদন উল্লেখ যোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” কৃষি বিভাগ ও চাষিদের মতে, শেষ সময়ের বৃষ্টিজনিত কিছু ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিক ভাবে এ বছর বিজয়নগরে লিচুর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। জে/এ
