
নাজমুল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার-
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় এবার অলৌকিক ভাবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
ঘাট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহনে’র নন-এসি বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে থাকা ”করবী অক্সফ্যাম” নামের ফেরিতে উঠছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির এক পকেট দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত পাশের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় র্যাম্পটি ভেঙে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
বাসের এক নারী যাত্রী জানান, কুষ্টিয়া থেকে বাসটি যাত্রী বোঝাই করে সকাল ৭ টায় রওনা হয়ে ছিল। ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাসে শুধু চালক ও তার সহকারী (হেলপার) ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পরই নদী থেকে বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘন্টার মধ্যেই ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে এনেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমটি সরাসরি তদারকি করছেন দৌলতদিয়ায় অবস্থানরত বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং)।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পল্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ২৬ জন যাত্রী নিহত হয়ে ছিলেন। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামানোর কড়া নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। আজ সেই নিয়ম মানার কারণেই বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেল। জে/এ
