
জি. এম. আমিনুর রহমান,
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ রোপণ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার ১২৮ টি সংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের ২৫ টি যুব সংগঠন, গ্রিন কোয়ালিশন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রিন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী অনন্যা রাজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও যুব সংগঠনের সদস্যরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকটি প্রজাতির বীজ ও একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন। সাতক্ষীরা গ্রিন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বাড়ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লাখ বীজ রোপণের উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বীজ সহায়তাকারী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, দেশীয় প্রজাতির ১০ লাখ বীজ রোপণ সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে উপকূলীয় এলাকা আরও সবুজ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলও গড়ে উঠবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আঁশফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল ও অর্জুনসহ স্থানীয় প্রজাতির প্রায় ৭ লাখ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ১০ লাখ বীজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি বীজ থেকেই ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী বৃক্ষ গড়ে ওঠে। বৃক্ষ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ও নদীতীর রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। জে/এ
