
মাইনুল ইসলাম রাজু,
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি-
বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়নের ছোটনীলগঞ্জ গ্রামে বিরোধীয় জমি-জমা হালচাষ নিয়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার ছোটনীলগঞ্জ গ্রামের মো. পাশা হাওলাদার গংদের সাথে একই গ্রামের মো. জলিল গাজী গংদের সাথে ১০ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রবিবার সকালে জলিল গাজী গংরা ওই বিরোধীয় জমিতে হালচাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষ পাশা হাওলাদার গংরা বাঁধা প্রদান করেন।
ওই সময় উভয় পক্ষের লোকজন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই দেশিয় অস্ত্র রামদা, ছেনা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয়পক্ষই কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ২০ জন আহত করেন। আহতরা হলেন, পাশা হাওলাদার (৪৬), রুস্তম হাওলাদার (৭৫), খোকন (৩৫), মহসিন (২৮), মাহবুব (৪৫), সোহেল মোল্লা (৪০), মাহবুবুর রহমান (৫০), ইমরান হোসাইন (২৪), জাহিদুল গাজী (৩৫), জলিল গাজী (৪৮), ফয়সাল গাজী (২৭), আখিনুর বেগমসহ (৩৫) ২০ জন। স্বজন ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুনা বিনতে হক জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
আহত পাশা হাওলাদার বলেন, ওই বিরোধীয় জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জলিল গাজী গংরা আদালতের আদেশ অমান্য করে ভাড়াটে লোকজন এনে জোরপূর্বক জমি চাষাবাদ ও বীজ রোপন করতে গেলে তাতে আমরা বাঁধা দেই। ওই সময় লাঠিসোঁটা ও দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। অপর পক্ষের আহত মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ওই জমিতে আদালতের রায় অনুযায়ী হালচাষ করতে যাই। তখন পাশা হাওলাদার গংরা আমাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। আমরা এই ঘটনায় বিচার দাবী করছি। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ওই ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখোনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জে/এ
