
এমএফএইচ রাজু | ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘গ্রিন বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইনোভেশন’ শীর্ষক অধিবেশনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, গবেষণা ও উদ্ভাবন, সবুজ অর্থায়ন এবং টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তির প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিজয় সরণির নভোথিয়েটার অডিটোরিয়ামে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধান অতিথি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি।
আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার, সিয়াম সিটি সিমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. কান্তাসাত বুনতেম এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. এ এস এম ওবায়দুল্লাহ মাহমুদ। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা সংস্থা (ইউএনওপিএস)-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ আলাভী।
সরকার, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নিয়ন্ত্রক প্রণোদনা, সবুজ অর্থায়ন এবং টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশের ভবন ও নগরগুলোকে আরও নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি বলেন, সবুজ ভবনের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অতিরিক্ত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) প্রণোদনা, UNEP, UNOPS ও UN-Habitat-এর সহযোগিতায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (HBRI) কর্তৃক HBRI-DESH Sustainable Building Assessment and Labelling Framework প্রণয়ন এবং কার্বন-সচেতন নগর নকশা প্রতিযোগিতা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো সবুজ নির্মাণকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিকল্পনা, অনুমোদন, সরকারি ক্রয় এবং বেসরকারি উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি ও পানির ব্যবহার কমানো, স্বল্প-কার্বন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো এবং টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের নির্মাণ খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আলোচনায় উঠে আসে।