
এম আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের লোকাল গভর্মেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় ডিঙ্গাডোবা ক্যাথলিক গোরস্থানের অভ্যন্তরে ইউনিব্লক সড়ক ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফলক উন্মোচন করে এ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। এ কাজের আওতায় ডিঙ্গাডোবা ক্যাথলিক গোরস্থানের অভ্যন্তরে ইউনিব্লক সড়ক ও আরসিসি ড্রেনের পাশাপাশি মাটি ভরাট এবং ছাউনি নির্মাণ করা হবে। এ সময় রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নগরীর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় ডিঙ্গাডোবা ক্যাথলিক গোরস্থানের অভ্যন্তরে উন্নয়ন কাজ শুরু হলো। এ সময় রাসিক প্রশাসক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ইত্যাদি স্থানে কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ডিঙ্গাডোবা ক্যাথলিক গোরস্থানের উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু পূর্বে কারো কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি। প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন দায়িত্বগ্রহণের পর উনার কাছ থেকে আমরা সহযোগিতা পেলাম। উনি উন্নয়ন কাজ শুরু করলেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি সকলের পক্ষ থেকে প্রশাসকের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অনুষ্ঠানে ডিঙ্গাডোবা ক্যাথলিক গোরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডি, সেক্রেটারি সুবাস কস্তা এবং কমিটির সদস্য শিরিল মূর্ম, মধু মূর্ম ও মেরি হেমরমসহ গোরস্থান ও চার্চ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফাদার ফারিয়ান মাডি, পালক পুরোহিত উত্তম মেষপালক ধর্মপল্লী, ফাদার লিটন ডি ‘কস্তা, পালক পুরোহিত, পবিত্র পরিবার ধর্মপল্লী, কয়ের দাড়া খ্রিষ্টান পাড়া, ফাদার বাপ্পি ক্রুশ, ফাদার জের্ভাস মুর্মু, সহকারি ফাদার-উত্তম মেষ পালক ধর্মপল্লী, মি, আরেক টপো, সিস্টার স্মৃতি রিবেরু, পরিচালক স্নেহনীড়, সিস্টার গ্লোরিয়া, পরিচালক শান্তি রানী কনভেন্ট, মিসেস মনিকা বাড়ে, সহ-সভাপতি পালকীয় পরিষদ, মি. ফ্রান্সিস সরেন সহ অন্যান্য খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দ।
এ সময় রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল-মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, সহকারী প্রকৌশলী সাকিব আরাফাত বিহগ, সার্ভেয়ার রক্তাভো রহমান রোকন সহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন উপস্থিত ব্যক্তিদের মাঝে ডেঙ্গু জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। জে/এ
