ভাণ্ডারিয়ায় জমি মামলায় আটক রিয়াজ মিরন আদালতে, পুরোনো চুরি মামলার নথিতেও নাম

[print_bangla]

এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় জমি-সংক্রান্ত মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. রিয়াজ মাহমুদ মিরন (৪৫)কে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

রিয়াজ মাহমুদ মিরন উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ভাণ্ডারিয়ার দেওয়ানি আদালতে দায়ের করা একটি জমি-সংক্রান্ত মামলায় রিয়াজ মাহমুদ মিরন বিবাদীপক্ষের একজন। ওই মামলায় নালিশি ভূমি নিয়ে বাদীপক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। পরে ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালত ২ ও ৩ নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আদালতের আদেশে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাদীর শান্তিপূর্ণ দখলে বাধা দেওয়া, তাকে বেদখল করা, বসতঘর ভেঙে ফেলা, ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ কিংবা ভূমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, রিয়াজ মাহমুদ মিরনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের একটি পৃথক চুরি মামলার নথিও রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১৭; দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহারে বাদী শওকত হোসেন অভিযোগ করেন, ৬ অক্টোবর ২০১৭ ভোরে তার বাসা থেকে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে এসব মালামালের মোট মূল্য ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে রিয়াজ মাহমুদ মিরনকে নামীয় আসামি করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসাইন উল্লেখ করেন, রিয়াজ মাহমুদ মিরনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্প সময়ের কারণে আসামিকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

একই মামলায় বাদীর প্রতিবেশী মো. শাহ আলমের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও মামলার নথিতে রয়েছে। সেখানে তিনি ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে তার বক্তব্য দেন এবং রিয়াজ মাহমুদ মিরনের নাম উল্লেখ করেন। তবে ১৬১ ধারার জবানবন্দি তদন্তের অংশ, এটি আদালতের চূড়ান্ত রায় বা দোষ প্রমাণের সিদ্ধান্ত নয়।

মামলার নথিতে দুই কিশোর সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করার তথ্যও রয়েছে।

২০১৭ সালে মামলাটি নিয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তৎকালীন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, যাত্রাবাড়ী থানার মামলার ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াজ মাহমুদ মিরনসহ সংশ্লিষ্টদের আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সময় প্রকাশিত সংবাদে পুলিশের অভিযানে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালামাল উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে ২০১৭ সালের ওই মামলার পরবর্তী তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য বর্তমান নথিতে পাওয়া যায়নি। ফলে মামলাটির বিষয়গুলো এজাহার, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীর জবানবন্দি ও সে সময়ের প্রকাশিত সংবাদে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হলো। রিয়াজ মাহমুদ মিরন ওই মামলায় চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, মো. রিয়াজ মাহমুদ মিরন জমিজমা-সংক্রান্ত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে আটকের পর পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাণ্ডারিয়ায় জমি মামলায় আটক রিয়াজ মিরন আদালতে, পুরোনো চুরি মামলার নথিতেও নাম

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top