ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন মামলায় আটক চার আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ

[print_bangla]

এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন মামলায় আটক চার আসামিকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

আদালতে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. রিয়াজ মাহমুদ মিরন (৪৫)। তিনি উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। তিনি জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভাণ্ডারিয়ার দেওয়ানি আদালতে দায়ের করা একটি জমি-সংক্রান্ত মামলায় রিয়াজ মাহমুদ মিরন বিবাদীপক্ষের একজন। ওই মামলায় নালিশি ভূমি নিয়ে বাদীপক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। পরে ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের আদেশে আদালত ২ ও ৩ নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাদীর শান্তিপূর্ণ দখলে বাধা দেওয়া, তাকে বেদখল করা, বসতঘর ভেঙে ফেলা, ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ কিংবা ভূমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন থেকে বিবাদীদের বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, ২০১৭ সালের একটি পৃথক চুরি মামলার এজাহার ও এফআইআরেও রিয়াজ মো. মিরনের নাম আসামি হিসেবে রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১৭- দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় মামলাটি করা হয়। এজাহারে বাদী শওকত হোসেন অভিযোগ করেন, ৬ অক্টোবর ২০১৭ ভোরে তার বাসা থেকে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে এসব মালামালের মোট মূল্য ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

এফআইআরে রিয়াজ মাহমুদ মিরনকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাকির হোসাইন তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই মামলায় বাদীর প্রতিবেশী মো. শাহ আলমের ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও নথিতে রয়েছে। তবে সরবরাহ করা নথিতে ওই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা আদালতের রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মো. রেজাউল ইসলাম গোমস্তা (৩৩)। তিনি উপজেলার ইকরি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আতরখালী গ্রামের আ. হাকিম গোমস্তার ছেলে। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মো. জাকির ফকির (৪৬)। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শিয়ালকাঠি এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে। তাকে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভাণ্ডারিয়া থানাধীন মঞ্জু মার্কেট এলাকায় গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদারের সহায়তায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শামসুল হক বেপারী (৬০)। তিনি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের হরমুজ আলী বেপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধেও আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন মামলায় আটক চার আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top