
মোঃ মামুন অর-রশীদ,
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও শহরের অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার (বিডি হল)-এর দক্ষিণ পাশ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে হলের কেয়ারটেকার মরদেহটি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ, সিআইডির বিশেষ টিম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে বিডি হলের কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম হলের দক্ষিণ পাশে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কাছে গিয়ে টিনের ফাঁকে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তিনি বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, আলামত সংগ্রহ এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরে সিআইডির একটি বিশেষ টিমও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মরদেহের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম মো. রুমন আলী (২৬)। তিনি দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালী থানার বটতলী রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. তৈয়বুর রহমান এবং মায়ের নাম মোছা. সাহিনা বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুমন আলী ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাঁর সর্বশেষ মোবাইল ফোন কল রাত ১০টা ৩১ মিনিটে হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে তাঁর চলাফেরা, যোগাযোগ এবং মৃত্যুর আগে কোথায় ছিলেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে—তা জানতে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জে/এ
