মঙ্গলবার ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩

কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, আবারো বন্যার শঙ্কা

[print_bangla]

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর-

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। কোথাও সবজিখেত, কোথাও পাটখেত তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদ–নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই নদ–নদীতে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ৯ মিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ–নদীর পানি সমতলে বাড়ছে। নদ-নদীর পানি আরও বাড়লে বিশেষ করে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ হাজীরবাজার, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ায় চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়ন, চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাটি ও কড়াইবরিশাল চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক মাসের ভাঙনে চিলমারী ইউনিয়নের শতাধিক বসতবাড়ি এবং একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার শাখাহাটি চর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবদুর রহমান (৫৫) বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১৫ বার বসতভিটা হারিয়েছি। এবার শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেঁতরাই ইউনিয়নের জুয়ান সতরার চর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবুল কাসেম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটা বন্যা হয়ে গেল, ভাবছিলাম আর বন্যা হবে না। তাই জমিতে শাক-সবজি লাগাই ছিলাম। আবার গতকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের কী হবে, আল্লাহ ভালো জানেন।’
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছাঃ রাজিয়া বেগম বলেন, তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। তবে গতকাল সোমবার রাত থেকে নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গতকাল মাত্র ৫০টি পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার পাউবো সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ৫টি প্রধান নদ-নদীর দুই তীরের মোট দৈর্ঘ্য ৩৭৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢলে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি দুই কিলোমিটারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, আবারো বন্যার শঙ্কা

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top