
মোঃ মামুন অর-রশীদ,
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
‘একটি ছোট সহায়তা কখনো কখনো একটি পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে’-এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে হতদরিদ্র পরিবারের ২৯ জন নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ২০০ সদস্য। তাদের সম্মিলিত অনুদানে ২৯ জন নারীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়নের পটুয়া ফেডারেশন ক্লাব প্রাঙ্গণে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ঠাকুরগাঁও এডিপির উদ্যোগে ‘Joy of Giving-পাশে দাঁড়ানোর আনন্দ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত বিশেষ অনুদানের এক-দশমাংশ হিসেবে ২০০ জন সদস্যের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। সদস্যদের দেওয়া সেই অনুদান একত্র করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। ভিডিএস (Village Development Society)-এর মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ার উপযোগী পরিবারগুলো চিহ্নিত করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ ফজলে রাব্বী, সদস্য, যুবদল আহ্বায়ক কমিটি, ঠাকুরগাঁও জেলা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান হান্নু।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডমিনিক রিবেরু, প্রোগ্রাম অফিসার, ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুমা আক্তার, শদরী রাণী ও তাহমিনা বেগম। তারা বিশেষ এই সহায়তার জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপকারভোগীরা জানান, ৫ হাজার টাকা হয়তো বড় কোনো অর্থ নয়, কিন্তু একটি হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সংকটের সময়ে এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, পরিবারের জরুরি ব্যয় মেটানো কিংবা আয়মূলক কাজে অর্থ ব্যবহার করবেন বলে জানান। তাদের প্রত্যাশা, এই সামান্য সহায়তা ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, ‘পাশে দাঁড়ানোর আনন্দ’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু অর্থ সহায়তা দেওয়া নয়; বরং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করা। সমাজের প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অসহায় পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তারা আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ২০০ সদস্যের সম্মিলিত এই অনুদান তাই শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—এটি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক দৃষ্টান্ত। জে/এ
