
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন-
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বৈচিত্র হলো তিনটি দেশের স্বাগতিক হওয়া এবং ৪৮ টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। ফলে অনেকগুলো দলকেই এদেশে-ওদেশ করে বেড়াতে হবে, প্লেনে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। যাই হোক, তিনটি দেশ স্বাগতিক হওয়ায় এবার দর্শকরা বাড়তি আনন্দও পেয়েছে। তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও স্বাগতিক তিনটি দেশের খেলার প্রতিও ক্রীড়ামোদিদের চোখ ছিল। বিশ্বকাপে এবার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে ১১ জুন রাত ১১ ঘটিকায় মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে। এর দু’ঘন্টা পর একই স্টেডিয়ামে রাত ১ ঘটিকায় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। এ ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকো এর আগে বিশ্বকাপে ৭ টি উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু কোনবারই বিজয়ী হতে পারেনি। ১৯৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারে, ১৯৫০, ১৯৫৪ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হারে ব্রাজিলের কাছে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজিত হয় সুইডেনের কাছে। ১৯৭০ ও ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ড্র করে দেশটি।
ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও টেনশানে ছিলো এল ত্রিরা। তবে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে এবার খেলায় আধিপত্য বজায় রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের অষ্টম উদ্বোধনী ম্যাচে বিজয় ছিনিয়ে আনে। এর মধ্যে ব্রাজিলকে টপকে মেক্সিকো একটি নতুন রেকর্ডও করে ফেললো। এর আগে সাতবার করে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিলো ব্রাজিল ও মেক্সিকোর, পাঁচবার জার্মানির এবং চারবার করে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের। কিন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে মেক্সিকো এখন আটবার উদ্বোধনী ম্যাচ খেলুড়ে দল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১২ জুন রাত ১ টায় কানাডার টরেন্টোতে। খেলায় অংশ নেয় স্বাগতিক কানাডা ও প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া। ফিফা র্যাংকিংয়ে কানাডার অবস্থান ৩০ এবং বসনিয়ার অবস্থান ৬৫ হলেও উদ্বোধনী ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। কানাডা জিততে না পারলেও পরাজিত হয়নি।
উল্লেখ্য এর আগে কানাডা ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে এবং বসনিয়া ২০১৪ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়। তবে কোন দলই প্রথম রাউন্ড অতিক্রম করতে পারেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। পপ তারকা ক্যাটি পেরি ও র্যাীপার ফিউচার এই আয়োজনে প্রধান শিল্পী হিসেবে মঞ্চ মাতান। তবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় দেবও পারফর্ম করেন। সঞ্চয়ের বাবা সন্তোষ দেব বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মানুষ আর মা মিতা দেব সুনামগঞ্জের মানুষ। বিশ্বকাপের মঞ্চে একজন বাংলাদেশির পারফর্ম করাটা আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের।
তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ ছিলো ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা প্যারাগুয়ে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ২০০২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলো এবং ১৯৩০ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলো। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিফা র্যাংকিং ১৬ এবং প্যারাগুয়ের ফিফা র্যাংকিং ৪০। স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে ৪-১ গোলে প্যারাগুয়েকে গুড়িয়ে দিয়ে তাদের শুভসূচনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ফোলারিন বালোগুন জোড়া গোল দেয়। এছাড়া ডামিয়ান বোবাদিল্লা ও জিওতান্নি রেইনা একটি করে গোল দেয়। প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র গোলটি দেয় মাউরিসিও মাগালিয়াযেস।
লেখক- প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ। মোবাইল-01712277552, ইমেইল-sahadot.hossain@gmail.com
