
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সমন্বয়ে নগর জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট’। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম—দেশের এই দুই প্রধান মহানগরীতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পকে প্রযুক্তিবান্ধব নগরী গড়ার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও কার্যক্রম
এআই-চালিত এই স্মার্ট সিটি প্রজেক্টের প্রধান কাজ হলো নগরের জটিল সমস্যাগুলোকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা। এর মূল দিকগুলো হলো:
-
এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: ট্রাফিক সিগন্যালগুলো এখন আর নির্দিষ্ট সময়ে চলবে না। সেন্সর ও এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কের যানবাহনের চাপ পর্যবেক্ষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হবে। এতে যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-
স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহরের ডাস্টবিনগুলোতে সেন্সর বসানো হয়েছে। আবর্জনা পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্জ্য অপসারণকারী সংস্থাকে নোটিফিকেশন চলে যাবে। এতে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হবে এবং যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকার সমস্যা কমবে।
-
জননিরাপত্তা ও স্মার্ট নজরদারি: এআই-চালিত উন্নত ফেস রিকগনিশন সিস্টেম এবং অপরাধ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে প্রধান মোড়গুলোতে। ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে মুহূর্তেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা শনাক্ত করতে পারবে।
-
বিদ্যুৎ ও পানির স্মার্ট মিটারিং: শক্তির অপচয় রোধে আইওটি (IoT) ভিত্তিক স্মার্ট মিটারিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, যা গ্রাহকদের ব্যবহারের তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রকল্পের গুরুত্ব
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “স্মার্ট সিটি কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এআই ব্যবহার করে আমরা নগরীর প্রতিটি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, জনবহুল ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে এআই প্রযুক্তি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধান বের করা প্রায় অসম্ভব। এই প্রজেক্ট সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি সাশ্রয়ী নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
শুরুতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, সরকার অত্যাধুনিক এনক্রিপশন ও ডেটা সুরক্ষা নীতিমালা অনুসরণ করছে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা নগরের যেকোনো নাগরিক সেবা খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।
আগামী ছয় মাস এই পাইলট প্রজেক্টের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলাফল ইতিবাচক হলে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও এই প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটি প্রকল্প সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।