
কক্সবাজারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং রাস্তার কাজ করার অভিযোগ,দুই বছরের মাথায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
মোরশেদ কক্সবাজার:
কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া সিকদার পাড়া হাইওয়ে রাস্তা থেকে সুতারচর ব্রিজ পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।১ নম্বর ইটের খোয়া বা কংকর ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কাজ সারতে ২ ও ৩ নম্বর কংকর ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এর আগে মাত্র কয়েক বছর আগে এই রাস্তাটি কার্পেটিং করা হয়েছিল।
কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হতে না হতেই রাস্তাটি পুনরায় সংস্কারের নামে হরিলুট চলছে। সচেতন মহল ও স্থানীয়দের ধারণা, আগের নির্মাণকাজে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার কারণেই রাস্তাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সিকদার পাড়া, বড়ুয়া পাড়া ও সুতারচর এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কাজে এমন লগালোগী ও অস্থায়ী কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠিকাদার ১ নম্বর গ্রেডের উন্নত কংক্রিটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর ভাসমান ও নিম্নমানের কংকর দিয়ে নামমাত্র কার্পেটিং করছেন।
এভাবে কাজ করা হলে এই রাস্তা অল্প দিনেই আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার রনির কাছে ঠিকাদারের নাম ও ফোন নম্বর চাওয়া হয়।
কিন্তু তিনি কোনো তথ্য না দিয়েই সংযোগ কেটে দেওয়ায় ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে মুঠোফোনে কংকর ব্যবসায়ী জুয়েলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “ঠিকাদারের হুকুমেই এ ধরনের কংকর দেওয়া হয়েছে।” ঠিকাদারের নির্দেশে নিয়মের বাইরে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের বিষয়টি তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উপজেলা ইউএনও-এর বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৩ নম্বর কংকর দিয়ে কাজ করার খবর পেয়ে আমি স্বশরীরে পরিদর্শনে যাই এবং সেখানে গিয়ে ২ ও ৩ নম্বর কংকর দিয়ে কাজ করার বিষয়টি দেখতে পাই।
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ লোপাটের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিকদার পাড়া, বড়ুয়া পাড়া ও সুতারচরের সাধারণ মানুষ।
অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজের মান যাচাই এবং এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।