
নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের মো. সাগর হোসেন (২৮)।
সিআইডি জানায়, গত ২ জুন মামলার বাদীর মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত একটি মেসেজ আসে। মেসেজটি দেখার পর ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মোবাইলের ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ফোনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি তিনি।
পরে মোবাইলের ডিসপ্লে চালু হলে বিভিন্ন মেসেজ দেখে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, তাঁর হিসাব থেকে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। পরে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, শাহীদ আল ইমরান সৌরভকে রাত ১টা ১৫ মিনিটে রংপুরের ডিসি বাংলোর মোড়সংলগ্ন গোমস্তাপাড়া এলাকা থেকে এবং সাগর হোসেনকে রাত ২টা ৩৫ মিনিটে হনুমানতলা-চিকলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় শাহীদ আল ইমরানের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেকবই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি সিম্ফনি ব্র্যান্ডের বাটন ফোন ও একটি ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
ফেসবুক-টেলিগ্রামে আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন জানিয়েছে, ফেসবুক ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করত।
প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উত্তোলনের পর অনলাইনে দেশের বাইরে অবস্থানরত সহযোগীদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পেত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দুইজনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। চক্রের অন্যান্য সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ
ফিশিং প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে প্রবেশ না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছে সিআইডি।
বিশেষ করে সফটওয়্যার আপডেট, পুরস্কার, চাকরি, ব্যাংকিং সেবা কিংবা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে পাঠানো অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সন্দেহজনক কোনো লিংক বা মেসেজ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।