
শিব্বির দেওয়ান-
৫ বছর পর ঘুরে ফিরে নির্বাচন আসে। আমেজ উত্তাপ ছড়ায় দিকে দিকে। চায়ের কাপে ঝড় উঠে। দোকানে বসে টকশো হয়। পোষ্টারে ছেয়ে যায় গ্রাম কিংবা শহর। মাইকের উচ্চ স্বরে কেঁপে উঠে চারিপাশ। প্রতিশ্রুতি আর আশার বানীতে নেচে উঠে ভোটারগণ। কখনো নির্বাচন প্রাণবন্ত হয় কখনো হানাহানিতে ভোট আনন্দ বিষাদে রুপ নেয়। আনন্দ বেদনার রুপদানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কেউ বিজয়ে হাসে কেউ পরাজয়ে কাঁদে। এভাবেই নির্বাচন রং বদলায়। বিজয় বেশে জনগণ উন্মুখ থাকে আশার ফুল ফুটবে বলে। জনপ্রতিনিধির প্রতিশ্রুতি আর জনপ্রত্যাশা পূরণ কখনো সেবা ক্রয় বিক্রি বিষাদে রুপ নিয়ে আশা ব্যহত হয়। নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধি সু-সেবার অন্তরায়। প্রকাশ আছে ইউপি মেম্বারদের সম্মানী ৩৬০০ টাকা, চেয়ারম্যানদের সম্মানী ৪৫০০ টাকা। যা সরকার প্রদান করে। বৈধ উপায়ে এই সম্মানী ভাতা দিয়ে একজন ইউপি জনপ্রতিনিধির সংসার ভরনপোষণ কষ্টসাধ্য ই বটে। একজন জনপ্রতিনিধি সেবক হয়ে কাজ করে সমাজ মানুষ দেখভাল করতে গিয়ে নিজ কর্ম করার সুযোগ থাকে না। ফলে ইউপি জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি সু-বিবেচনায় নেওয়া সরকারের উচিত বলে মনে করি। না হয় সেবা ক্রয় বিক্রয় ঠেকানো সম্ভব নয়। গভীর বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানে দেখা যায় ইউপি সেবা বিক্রি হয়ে হাত বদল হয়। জনগণ সেবা বঞ্চিত হয়। নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধি সু-সেবার অন্তরায় বটে অত:পর যৎসামান্য সম্মানী ভাতা একজন জনপ্রতিনিধিকে সাংসারিক আয় ব্যয়ে হতাশায় ফেলে দেয়। স্বাচ্ছন্দে সেবা বিনিময়ে জনপ্রতিনিধির সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি ও সু-সেবা নিশ্চিতকরণে কঠোরতা প্রয়োগ ও সেবা বিক্রি রোধে অন্যায় অনিয়ম শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে লাগাম টেনে ধরা সেবক ও সেবা প্রার্থীর সু-সম্পর্ক দৃঢ় হবে। না হয় চিরকালই জনগণ সেবা বঞ্চিত হবে। স্লোগান হোক-নির্বাচন হোক মাধ্যম। জনপ্রতিনিধি হোক সেবক-জনগণ হোক সেবা প্রার্থী। তবেই গণতান্ত্রিক সুন্দরে রুপায়িত হবে সমাজ ব্যবস্থা। মানবতার জয় হবে। না হয় মলিন মুখে হাসি অস্ফুট ই রবে। নিরবে নিভৃতে কাঁদবে বিচারের বাণী। নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধি সু-সেবার অন্তরায়।
ইউপি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ-ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা-সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের সাথে সম্মানী ভাতার পরিমান নির্নয় করলে ব্যয় খরচ বেশি প্রতীয়ান। এই অসঙ্গতি বজায় রেখে সু-শাসন ও সু-সেবা আশা করা যায় না। জে/এ
