
ছোট গল্প
শহরের কোলাহল ছেড়ে একটুখানি দূরে
ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর ঘেঁসে বিকেলে নরম আলোয় হাঁটছি।
ব্রহ্মপুত্রের হিমেল হাওয়া অনুভূতি দোয়ার
খুলে দিয়েছে নতুন করে।
ইট পাথরের মনটাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে এরচেয়ে সস্তা কোনো ঔষধ নেই।
নদীতে তেমন ঢেউ নেই নিবিড় শান্ত পানিতে পাল তোলা নৌকায় বসে দুইপাশের কাশফুলে নিজেকে বিলিয়ে দিলাম, তুলোধুনো কাশ পাপড়ি মনের মাধুরি মিশিয়ে সঙ্গ দিল আমায় ।
শেষ বিকেলটা সত্যি খুব চমৎকার
প্রখর সূর্যটা আস্তে আস্তে জোছনা মাখা চাঁদের মতো নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে ।
পাখিরা নীড়ে ফেরার পথে
গোধূলির আলোমাখা আকাশপটের লাল রশ্মি এঁকে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে বসে বসে পরের অধ্যায়টুকু অনুভব করি
কিন্তু পরক্ষণেই অন্ধকার এসে আমাকে ঝাপটে ধরে।
মশা গুলো গান শুনিয়ে বিস্মিত করে
আমাকে সঙ্গ দিতে আকাশে চাঁদ উঁকি দেয়
ব্রহ্মপুত্রের পানিতে চাঁদের জোছনা খেলা করে।
মনে হচ্ছিল আর যদি ফিরতে না হতো ইট পাথরের বন্ধি জীবনে।
ভালোই তো আছি মশার গানে পাখিদের কিচির মিচির শব্দে,
চাঁদের আলো চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে আমার গায়ে
ক্লান্তিহীন দেহ উৎফুল্ল মন আর কি চাই ?
এমনি করে কেটে যাক হাজার বছর ।
গল্প বলা মেয়ে
তাছলিমা আক্তার মুক্তা
ভালুকা, ময়মনসিংহ।