কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ও শ্রমিকদের অবরুদ্ধ

[print_bangla]

এম এ রশীদ:

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু তোলার কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় ফসলি জমি, বসতবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থান। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে সভা ও মানববন্ধনের পর এবার ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার ও এর শ্রমিকদের অবরুদ্ধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেওলা ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং দীগলবাক এলাকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে আবাদি জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

সম্প্রতি শেওলা ইউনিয়নে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার ও এর সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এ বিষয়ে ইজারাদারের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবকই ড্রেজারটি সেখানে নিয়ে গেছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি কণ্ঠবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।

বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এর আগে শেওলা ইউনিয়নে জরুরি সভা ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ড্রেজার দিয়ে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

কুশিয়ারা নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকা ও কৃষিকাজের সঙ্গে নদীটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। নদীভাঙনে ফসলি জমি হারালে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে বসতভিটা, ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে।

নদীর উপযুক্ত স্থান ও নির্ধারিত সীমার বাইরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন নদীর তলদেশ ও প্রবাহের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও নদীর পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধিবিধান লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শেওলায় কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে ইজারার সীমানা নির্ধারণ, অনুমোদিত কার্যক্রম যাচাই এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের দাবি, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত তদারকি এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

নদী ও নদীতীরবর্তী মানুষের সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুশিয়ারা নদীতে অনিয়মিত বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগের অবসান ঘটবে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ও শ্রমিকদের অবরুদ্ধ

১৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top