
পর্যটকদের নিরাপত্তায় কক্সবাজারে জরুরি মতবিনিময় সভা: ফায়ার সেফটিসহ ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ গঠনের ঘোষণা
মোঃ মোরশেদ,(জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।
কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নিরাপত্তা ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিক-ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত (২৪ অক্টোবর) শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘শহিদ সুভাষ হলে’ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান।
সম্প্রতি ইনানী ও কলাতলীসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং পাটুয়ারটেকের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একই সাথে সমুদ্রে নেমে পর্যটকদের সলিলসমাধির মতো ঘটনাগুলো নিয়ে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভার শুরুতেই এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সর্বসম্মতিক্রমে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও বক্তব্য প্রদান করেন সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল এবং অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সচিব, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিপিডিবি, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টয়াক) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনার শুরুতেই জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ বিদ্যমান আইন-বিধিমালা, ফায়ার সেফটি ও পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা মতামত বিনিময় করেন। ব্যবসায়ী নেতারা পর্যটন শিল্পের বর্তমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরেন।
পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভায় বেশ কিছু কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, চিহ্নিত জরুরি বহির্গমন পথ রাখা এবং কর্মচারীদের অগ্নি-নির্বাপণ প্রশিক্ষণ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ফায়ার ও শর্ট সার্কিট ঝুঁকি এড়াতে অনতিবিলম্বে সব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং সঠিকভাবে গেস্ট রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের কোনোভাবেই রুম বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।
সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের গোসলের সার্বিক নিরাপত্তায় লাইফগার্ড, ফ্লাডলাইট এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান ও প্রস্তাবনা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালু করা হবে।
পাটুয়ারটেক-হিমছড়ি জোনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত একটি নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণে জানান, পর্যটকরা আনন্দ ও বিনোদনের খোঁজে কক্সবাজারে আসেন এবং তারা যেন নিরাপদ স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন তা নিশ্চিত করাই সবার প্রধান অঙ্গীকার।
জেলা প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় “নিরাপত্তা হোক কক্সবাজার পর্যটনের প্রধান পরিচয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পর্যটন ব্যবসাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ও সবার সহযোগিতা ব্যক্ত করে সভা শেষ হয়।