
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
গ্রীষ্মের প্রখর তপ্ত রোদে যখন প্রকৃতি রুক্ষ সাজে মগ্ন, ঠিক তখনই রঙের ঢল নেমেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে। ১৭৫ একরের এই সবুজ বিদ্যাপীঠের শান্ত আকাশ জুড়ে যেন হঠাৎ করেই গাঢ় লাল মেঘ জমেছে। তবে এ মেঘ বৃষ্টির নয়, এ মেঘ কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভার। ঋতুচক্রের আবর্তনে গ্রীষ্মের এই দাবদাহে ক্যাম্পাস এখন এক অনন্য লাল অভয়ারণ্য।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরের এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন কৃষ্ণচূড়ার জয়জয়কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পা রাখলেই চোখে পড়ে এক বিশালাকৃতির কৃষ্ণচূড়া গাছ, যা পুরো ফটককে যেন মায়ার চাদরে ঢেকে রেখেছে। কুষ্টিয়া থেকে ২৪ ও ঝিনাইদহ থেকে ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা যখন বাসের জানালা দিয়ে এই রক্তিম রূপ দেখে, তখন তাদের দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি নিমিষেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। দূর থেকে দেখে মনে হয়, পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে যেন রঙিন প্রজাপতির মেলা বসেছে।
শুধু প্রধান ফটক নয়, ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন লাল রঙের প্রাকৃতিক আল্পনায় সেজেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, টিএসসিসির পূর্ব ও পশ্চিম গেট, মমতাজ ভবন এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনের চত্বরগুলো কৃষ্ণচূড়ার লালে রঙিন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থানা গেট, জিমনেসিয়ামের সামনে এবং রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের প্রাঙ্গণে এই ফুলের সমারোহ যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।
আবাসিক হল এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসবের রং। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, লালন শাহ হল, সাদ্দাম হোসেন হল এবং ছাত্রীদের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে ও পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন প্রকৃতির একেকটি মশাল। ডালপালা ছাপিয়ে ফুটে থাকা এই আগুনরঙা ফুলগুলো কেবল প্রকৃতিকেই নয়, রাঙিয়ে দিচ্ছে তরুণ-তরুণীদের মনও। বিকেলে যখন ঝরে পড়া ফুলগুলো ঘাসের ওপর লাল গালিচা তৈরি করে, তখন সেখানে আড্ডা ও ছবিতোলায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা।
প্রকৃতি ও শিক্ষার এমন মিলনমেলা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে দিয়েছে এক স্বর্গীয় রূপ। গ্রীষ্মের ক্লান্তি আর তপ্ত দুপুরের মাঝে এই কৃষ্ণচূড়ার হাসি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার নতুন প্রেরণা জোগাচ্ছে। যতদিন এই রক্তিম আভা থাকবে, ততদিন ইবি ক্যাম্পাস যেন এক রঙিন স্বপ্নের রাজ্য হয়েই থাকবে।