
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি একটি নতুন ও কঠোর সাইবার সুরক্ষা নীতিমালা জারি করেছে। বিশেষ করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর জন্য আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) এই নির্দেশনা কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নতুন নির্দেশনার মূল দিকসমূহ
সাইবার অপরাধীদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বেশ কিছু বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে:
-
বায়োমেট্রিক ও মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন: প্রতিটি আর্থিক লেনদেনে এখন থেকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক ছাড়া বড় ধরনের লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে না।
-
নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর তাদের আইটি অবকাঠামো এবং সফটওয়্যারের নিরাপত্তা অডিট করাতে হবে এবং এর প্রতিবেদন এজেন্সির কাছে জমা দিতে হবে।
-
ডেটা এনক্রিপশন: গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক ডেটা সুরক্ষায় সর্বাধুনিক এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেটা সংরক্ষণে ‘জিরো ট্রাস্ট’ নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম: প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৪/৭ সক্রিয় ‘সাইবার সিকিউরিটি রেসপন্স টিম’ থাকতে হবে, যাতে যেকোনো সাইবার হামলার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির বক্তব্য
এজেন্সির মহাপরিচালক জানান, “আমরা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছি ঠিকই, কিন্তু এর নিরাপত্তার দিকটি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। নতুন এই নীতিমালা কেবল নিয়ম পালন নয়, বরং গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখার একটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ। যারা এই নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সাহসী এবং সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে ফিশিং, ম্যালওয়্যার এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে। এই কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে আর্থিক খাতে সাইবার ঝুঁকি অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ
নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনার পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করা, ওটিপি (OTP) বা পিন নম্বর কারো সাথে শেয়ার না করা এবং সব সময় অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি।
আগামী মাসের শেষ নাগাদ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।