
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি আইটি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবিত বিশেষায়িত অ্যাকাউন্টিং ও ইআরপি (ERP) সফটওয়্যার মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সফলভাবে রপ্তানি শুরু করেছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে এই রপ্তানি কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রপ্তানির নেপথ্য ও সাফল্য
দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর এখন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। এবারের রপ্তানি সফলতার মূল কারণগুলো হলো:
-
পণ্য বহুমুখীকরণ: শুধু কাস্টমাইজড সফটওয়্যার নয়, বরং ইআরপি (ERP) এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো জটিল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সলিউশন তৈরিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনেক বেশি দক্ষ।
-
সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান: আন্তর্জাতিক বাজারে থাকা বড় বড় সফটওয়্যার ব্র্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশি সফটওয়্যারগুলো মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
-
উচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বমানের সিকিউরিটি প্রোটোকল এবং ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সফটওয়্যারগুলো তৈরি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
সফটওয়্যার শিল্পের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য
সফটওয়্যার নির্মাতারা জানিয়েছেন, “আমরা শুধু কোড লিখছি না, আমরা বাংলাদেশের মেধা রপ্তানি করছি। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের এই সুযোগ আমাদের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে আরও বড় পরিসরে বাংলাদেশি সফটওয়্যার পৌঁছে দেওয়া।”
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশীয় আইটি খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। সরকারি প্রণোদনা এবং নীতিগত সহায়তার কারণে সফটওয়্যার শিল্পের উদ্যোক্তারা এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সফটওয়্যার রপ্তানি কেবল বৈদেশিক মুদ্রাই অর্জন করছে না, বরং এটি বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও তরুণ মেধাবীদের জন্য দেশের ভেতরেই বিশ্বমানের ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ তৈরি করছে। ডিজিটাল অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফটওয়্যার রপ্তানি খাত আগামী বছরগুলোতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সরকার থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সফটওয়্যার রপ্তানি বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক মেলাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিদেশি বাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আরও জোরালো সমর্থন প্রদান করা হবে।