
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এক শান্ত, স্নিগ্ধ এবং কৃষি প্রধান জনপদের নাম হরিণাকুণ্ডু উপজেলা। বিস্তীর্ণ পানের বরজ, ধানের মাঠ আর লোক সংস্কৃতির চারণভূমি এই অঞ্চলের রয়েছে এক বৈচিত্র্যময় অতীত। শত শত বছর ধরে এই জনপদের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুমার নদ যেমন এর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনই এর নামকরণের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে দারুণ সব ঐতিহাসিক লোকগাথা। মোট ২২২.৫৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই শান্ত জনপদটির উত্তরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, পূর্বে শৈলকূপা উপজেলা এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা অবস্থিত। প্রশাসনিক ভাবে ১৮৭৯ সালে এটি প্রথম থানা হিসেবে গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ১টি পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়ন (ভায়না, জোড়াদহ, তাহেরহুদা, দৌলতপুর, কাপাসহাটিয়া, ফলসী, রঘুনাথপুর ও চাঁদপুর), ১২২টি গ্রাম এবং ৭৪টি মৌজা নিয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা গঠিত। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, এখানকার বর্তমান জনসংখ্যা ২,১৮,৮৫৭ জন; যার মধ্যে ১,০৮,৯১৮ জন পুরুষ এবং ১,০৯,৯৩৯ জন নারী, যারা মোট ৫৭,০২৭টি পরিবারে বসবাস করেন।
হরিণাকুণ্ডু নামের উৎপত্তি নিয়ে স্থানীয় ভাবে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর লোককথা প্রচলিত রয়েছে। লোকমুখে শোনা যায়, এক সময় এই অঞ্চলটি গভীর অরণ্যে ঢাকা ছিল এবং এখানে প্রচুর হরিণের বাস ছিল। বনের মাঝে একটি বড় জলাশয় বা ‘কুণ্ড’ ছিল, যেখানে হরিণের দল পানি পান করতে আসত। ‘হরিণ’ আর ‘কুণ্ড’-এই দুইয়ে মিলেই কালক্রমে অঞ্চলটির নাম হয় হরিণাকুণ্ডু। যার প্রমান মেলে ১৯৮৬ সালে সোহাগপুর এর পার্শ্ব বতী নদী পূণঃ খনন কালে হরিনের শিং বড় মহিষের মাথার খুলি সাদৃশ অনেক হাড় গোড় উঠে আসে। আবার অন্য এক মতে, ব্রিটিশ আমলে নীলকরেরা এখানে হরিণ শিকারের জন্য আস্তানা গেড়েছিল, যা থেকে এই নামের উৎপত্তি।
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৭০০ শতকের দিকে এই অঞ্চলটি ছিল মূলত গভীর জঙ্গল ও জলাভূমিতে ভরা। এই প্রতিকূল পরিবেশের বুকে প্রথম জীবনের আলো জ্বালিয়ে ছিলেন এ দেশের আদিম নৃ-গোষ্ঠী ও অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষ। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলে মূলত কোল, ভিল, সাঁওতাল বাগদী এবং (আঞ্চলিক ভাষায় বুনো ) সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসতি স্থাপন করে ছিলেন। এই সাহসী ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষগুলোই জঙ্গল কেটে, জলাভূমি ভরাট করে প্রথম হরিণাকুণ্ডুর মাটিকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলেন। কুমার ও নবগঙ্গার তীরবর্তী এই বনেই শিকার ও মাছ ধরে চলত তাদের জীবন। পরবর্তীতে সমতলের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর আগমনে এবং দেশ ভাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আদি বাসিন্দাদের অনেকেই স্থানান্তরিত হলেও হরিণাকুণ্ডুর পলিমাটিতে আজও মিশে আছে তাদের অরণ্য ভাঙার আদিম ইতিহাস। বর্তমানে এখানকার জনসংখ্যার সিংহভাগ মুসলিম হলেও প্রায় ৮,৭৪০ জনের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত সু-সম্পর্কের সাথে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন।
হরিণাকুণ্ডুর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কুমার নদ। এই নদের বাঁকে বাঁকেই গড়ে উঠেছিল আদি জনবসতি। ব্রিটিশ শাসনামলে নীল চাষের এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই অঞ্চল। ১৮১৫-১৬ সালের দিকে ইউরোপীয় নীলকর জেমস শেরিফের মালিকানায় কুমার নদীর তীরে গড়ে ওঠে ‘জোড়াদহ নীল কনসার্ন’। এর অধীনে এই অঞ্চলে জোড়াদহ, ভবানীপুর, সোহাগপুর ও যোলদাড়িসহ মোট ৪ টি প্রধান নীলকুঠি পরিচালিত হতো। জোড়াদহ ও ভবানীপুর অঞ্চলে আজও রয়ে গেছে সেই অত্যাচারী ব্রিটিশ নীলকরদের নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ। কালের বিবর্তনে নদ তার যৌবন হারালেও, এর তীরের পলিমাটি আজও হরিণাকুণ্ডুকে রেখেছে উর্বর।
ঝিনাইদহ ও তার পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া অঞ্চলটি ছিল ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চারণভূমি। এই মাটির কোলেই জন্ম নিয়েছেন ও বড় হয়েছেন উপমহাদেশের বহু সূর্যসন্তান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ও অবিসংবাদিত নেতা হলেন বিপ্লবী বাঘা যতীন।
বাঘা যতীনের আসল নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি ১৮৭৯ সালের ৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ঝিনাইদহ জেলায় তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল এবং সেখানেই তাঁর শৈশবের প্রথমাংশ কাটে। মাত্র ৫ বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়ার পর তিনি মা শরৎশশী দেবী ও বড় বোন বিনোদবালার সাথে মাতামহের বাড়ি কয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে চলে যান। মা শরৎশশী দেবী ছিলেন একজন স্বভাবকবি, যাঁর আদর্শে যতীন ছোটবেলা থেকেই পরোপকার, সত্যনিষ্ঠা ও অকুতোভয় চরিত্রে গড়ে ওঠেন।
যতীন্দ্রনাথ শৈশব থেকেই অসামান্য শারীরিক শক্তি ও সাহসিকতার জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯০৬ সালের দিকে কয়া গ্রামে একটি বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) হানা দিলে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সেই সময় মাত্র ২৭ বছর বয়সী যতীন কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই, শুধুমাত্র একটি সাধারণ ‘ভোজালি’ (ছোট ছুরি) হাতে নিয়ে একাকী সেই হিংস্র বাঘের মুখোমুখি হন। প্রায় ১০ মিনিট বাঘের সাথে খালি হাতে জীবনপণ লড়াই করে তিনি বাঘটিকে হত্যা করতে সক্ষম হন। এই অভূতপূর্ব বীরত্বের পর তৎকালীন সরকার তাঁকে পুরস্বৃত করে এবং সারা বাংলায় তিনি “বাঘা যতীন” নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করেন।
বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর দল’-এর প্রধান নেতা ও প্রাণপুরুষ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিশ্বমঞ্চের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতের স্বাধীনতার জন্য জার্মানি থেকে অস্ত্র এনে একযোগে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মহাপরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শুধু অনুনয়-বিনয় করে নয়, বরং সশস্ত্র আঘাতের মাধ্যমেই ব্রিটিশদের তাড়াতে হবে।
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওড়িশার বালেশ্বর (বালাসোর) উপকূলে বিপ্লবীদের জন্য জার্মানি থেকে অস্ত্র আসার কথা ছিল। কিন্তু গোপন সূত্র মারফত ব্রিটিশ পুলিশ তা জেনে যায় এবং বাঘা যতীনকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বুড়িবালাম নদীর তীরে চারজন সঙ্গীসহ বাঘা যতীন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর আধুনিক সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে মাত্র কয়েকটি পিস্তল নিয়ে ঐতিহাসিক পরিখাযুদ্ধ (Trench Warfare) লড়েন। পরদিন অর্থাৎ ১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বালেশ্বর হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এই বীর বিপ্লবী শাহাদাত বরণ করেন। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিপ্লবী এম. এন. রায় বাঘা যতীন সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমি লেনিন ও বাঘা যতীন দুজনকেই দেখেছি। চরিত্রের দৃঢ়তায় বাঘা যতীনই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।” তাঁর এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি; তাঁর জ্বালানো বিপ্লবের আগুন পরবর্তীকালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুসহ হাজারো তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছিল। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের কুষ্টিয়া অঞ্চলের কয়া গ্রাম আজও এই মহান বিপ্লবীর স্মৃতি বুকে ধারণ করে গর্ব বোধ করে। মৃত্যুর আগে ব্রিটিশদের বন্দিদশায় তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত অমর বাণী ছিল, “আমরা মরব, জগত জাগবে”।
বাঘা যতীনের মতো বিপ্লবীদের তীব্র আন্দোলন এবং স্থানীয় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে একসময় এই অঞ্চলে নীল চাষের অবসান ঘটে। নীলকরদের বিদায়ের পর এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৮৯৮ সালে তৎকালীন নীলকুঠির অন্যতম প্রধান কর্তা জেমস উইলিয়াম শেরিফের হাত ধরেই এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত হয় “জোড়াদহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়”। এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী ভাবে মঞ্জুরিপ্রাপ্ত এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ, যা শত বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষের মনন গঠনে ও আলো ছড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
বাঘা যতীন যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন, তার পূর্ণতা আসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে হরিণাকুণ্ডুর মাটি ও মানুষ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কাপাসহাটিয়া, জোড়াদহসহ বিভিন্ন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ পাকিস্তানি বাহিনীকে কোণঠাসা করে ফেলে। এই মাটিরই বীর সন্তান ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল হাসান যশোরী-র মতো মহান ব্যক্তিত্বরা সে সময় এই অঞ্চলের মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যার ফলে শত্রুমুক্ত হয় কুমার নদের এই তীরের জনপদ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতা হরিণাকুণ্ডুর মাটিতে পরবর্তীতে আশির দশকের শেষভাগে এবং ১৯৮৯/৯০-এর ঐতিহাসিক স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানেও প্রজ্জ্বলিত ছিল। তৎকালীন সামরিক শাসক এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং তাঁর পতন নিশ্চিত করার রাজপথের লড়াইয়ে হরিণাকুণ্ডুর স্থানীয় প্রগতিশীল ছাত্র-জনতা ও বামপন্থী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এক বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলে সামনের সারি থেকে রাজপথের আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন কমরেড ফজলুল হক। তাঁরই বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে হরিণাকুণ্ডু থানা ঘেরাওয়ের মতো দুঃসাহসিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। শুধু স্থানীয় আন্দোলনেই নয়, পরবর্তীতে কেন্দ্র ঘোষিত মহাসমাবেশ ও ঢাকা অবরোধ সফল করতে তিনি হরিণাকুণ্ডুর স্থানীয় প্রগতিশীল নেতা-কর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে সরাসরি রাজধানীতে গিয়ে রাজপথের মিছিলে অগ্রভাগ থেকে নেতৃত্ব দেন। এই লড়াইয়ে কমরেড মনিরুল ইসলাম প্রগতিশীল রাজনীতি ও ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা রাখেন এবং লড়াকু ব্যক্তিত্ব মজনু তাঁর সাহসী কর্মকাণ্ড দিয়ে মাঠের আন্দোলনকে বেগবান করে ছিলেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ জনপদে মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ক্ষেতমজুর সমিতির আপসহীন নেতা কমরেড গওহর আলী ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত এবং প্রান্তিক কৃষকদের এক উজ্জ্বল কণ্ঠস্বর।
যুদ্ধ ও বিপ্লবের পাশাপাশি হরিণাকুণ্ডুর আত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস অত্যন্ত গভীর। লালন সাঁইজির কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া সংলগ্ন হওয়ায় এই অঞ্চলে বাউল দর্শনের এক শক্তিশালী চারণভূমি গড়ে ওঠে। হরিণাকুণ্ডুর চটকাবাড়ীয়া গ্রামে ১৮৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত লালন পদকর্তা ও সাধক শুকচাঁদ ফকির (শুকুর মন্ডল)। তিনি সাঁইজি লালন শাহের প্রধান শিষ্যদের সান্নিধ্যে এসে দরবেশী দীক্ষা নেন। তাঁর রচিত আধ্যাত্মিক গান ও বাউল দর্শন হরিণাকুণ্ডুর মানুষের মননকে যুগ যুগ ধরে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিবাদী ও পরম সহিষ্ণু করে রেখেছে। গ্রামীণ মেলা, কবিগান, জারি-সারি আর লোকজ উৎসবের আমেজ এখনো এখানকার মানুষের যাপনচিত্রের অংশ।
নদীমাতৃক হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বুক জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বিল, বাওড় ও প্রাকৃতিক জলাশয়। এর মধ্যে অন্যতম সর্ববৃহৎ বদ্ধ জলাশয় হলো প্রায় ২৬৮ একর আয়তনের কায়েতপাড়া বাওড়। এছাড়া রয়েছে ১৯৯.১৭ একর আয়তনের কাপাশহাটিয়া বাওড়, ৫৯.৩৩ একর আয়তনের চাঁদপুর বাওড় এবং প্রায় ১০০ একর আয়তনের দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম সাবেক বিন্নী বাওড়। বর্ষা মৌসুমে এখানকার কাকলি বিল এবং ঐতিহাসিক ডাকুপার খাল বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছের ভাণ্ডারে পরিণত হয়। বর্তমানে চমৎকার শান্ত পরিবেশের চারাতলা বাওড়টি মাছ চাষের পাশাপাশি একটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠছে।
হরিণাকুণ্ডুর মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এর কৃষি। বিশেষ করে এখানকার মিষ্টি পানের খ্যাতি দেশজুড়ে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই দেখা মেলে দিগন্তজোড়া পানের বরজ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পান ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। পানের পাশাপাশি ধান, পাট, গম এবং শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলন এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। নদীর কলতান, পানের বরজের সুবাস, নীলকুঠির ইতিহাস, জলমহালের ঐশ্বর্য আর লড়াকু ও বিপ্লবীদের স্মৃতি বুকে নিয়ে হরিণাকুণ্ডু আজও তার নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এই জনপদ তার সোনালী অতীত আর লোকগাথাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে। জে/এ